ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড

অলিউর রহমান ফিরোজ

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড

একটি দেশে কতটা নৈরাজ্য ঘটতে পারে তা সড়ক অবরোধ করে দাবি-দাওয়ার দৃশ্য দেখলেই বুঝা যায়। শাহবাগে কয়েকদিন পর পরই বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের ব্যানারে দাবি আদায় জানাতে জড়ো হয়ে থাকে। তাতে করে এ সড়ক কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করে। তাতে জনজীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভোগ। বিশেষ করে যারা অফিস-আদালতে কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তারাই বড় ধরনের বিপর্যয়ের শিকার হন। পুরুষ কর্মজীবী কোনোমতে এদিক সেদিক করে যেতে পারলেও নারীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় এ ক্ষেত্রে। তাই একটি মানুষের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। কিন্তু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কেন দাবি জানাতে হবে? এ প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগী প্রতিটি মানুষের। এমনিতে ঢাকা শহরের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়নি। এক রেলপথ ছাড়া বাকি পথ এখনো অনিশ্চয়তায় ভরা। তার ওপর যদি আন্দোলন এবং সড়ক অবরোধ করে কেউ তাহলে সে পথ ধরে কোনো যানবাহন আর যেতে চায় না। ঢাকায় এক সময় সিটিং বাসের দেখা মিললেও এখন তা যেন দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। লোকাল বাসের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তাহলে মানুষের চলাচলের উপায় কি? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর কেউ দিতে পারবে না। নিয়তির অমোঘ বিধানেই যেন মানুষকে এখন চলতে হবে।
তাই রাষ্ট্রকে বলব, যারা দাবি-দাওয়া জানাতে চায় তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কর্তাকে শুনতেই হবে। তার জন্য নির্ধারণ করা হোক কিভাবে এবং কোন পন্থায় তারা দাবি জানাবে। তাহলে যারা দাবি জানাতে আসবে তাদেরও আর জলকামানের পানিতে কাক ভেজা হতে হবে না। আর মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা অনেকাংশে কমে আসবে। সবচেয়ে ভালো পন্থা হলো সভা-সমাবেশের জন্য কোনো স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া। যারাই সেখানে আসবে তারা অবস্থান করবেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে লিখিত আকারে দিতে হবে এবং সে মতে রাষ্ট্রকেও ন্যায্য দাবিগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সেগুলো শুনতে হবে। মানার হলে মানতে হবে। যেগুলো মানা সম্ভব নয় সে বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে বসতে হবে। সড়কের অরাজকতা একটি দেশের চিত্রকে বহির্বিশ্বের দরবারে ছোট করা হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং জলকামান দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়ার পর তাদের যে চিত্র ভেসে ওঠে তা খুবই অপমানের এবং দুর্দশার। তা একটি দেশের গণতন্ত্রের অবকাঠামো মূলত ভেঙে দেয়। তাই অচিরেই দেশে আইনের বলয় তৈরি করে এহেন পরিস্থিতি দমনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। সেটাই দেশের মানুষের কাম্য।

রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ থেকে

×