
শত অনিয়ম ও দুর্নীতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার মিরপুরে ১৯৬৯ সালে দানবীর হাজী নূর মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম চালু রয়েছে। স্নাতক কোর্সে রয়েছে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের কয়েকটি বিষয়। দেশসেরা এ প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার। ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এখানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১২ সহকারী প্রধান শিক্ষক। এখতিয়ারবহির্ভূত ১০০ শিক্ষকের বেতন কর্তন করা হয়েছে বিনা কারণে। দীর্ঘ ৪ মাস বেতন বন্ধ আছে অন্তত ২০ শিক্ষক-কর্মচারীর। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি না থাকায় বিদ্যালয় প্রশাসনে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির কর্তাব্যক্তিরা ব্যস্ত নিয়োগ, পদোন্নতি, পদচ্যুতি, চাকরিচ্যুতি, বেতন কমানো, সংস্কার ও উন্নয়নের নামে অর্থ আত্মসাতে। একটি মহল নিজেদের লোক দিয়ে ইচ্ছামতো উন্নয়ন কাজ করে মনগড়া বিল তুলে নিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ মাসে স্কুলটিতে প্রায় ১৯ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। অথচ আইন অনুযায়ী ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কোনো উন্নয়ন কাজ করতে হলে দরপত্রের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অরাজকতা থামছেই না। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ঝামেলার আঁচড় কমবেশি লাগেনি। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবোত্তর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সমস্যাগুলো আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের স্বনামখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ছায়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলতে সকলকে বাধ্য করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা বাঁচলে বাঁচবে দেশ। একাধিক বার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মণিপুর স্কুলে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের আদেশ দেন মহামান্য আদালত। কিন্তু তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কার্যক্রম স্থগিত করেন। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে যারাই দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন, জড়িয়েছেন নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য এবং উন্নয়নের নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাটে।
গত ৫৪ বছরে প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টচক্র হামলে পড়েছে স্কুল-কলেজগুলোর ওপর। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় সম্পদ। এখানেই আমাদের সন্তানরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দীক্ষা নিচ্ছে ও নেবে। তবে কেন এই অস্থিরতা? বিগত কয়েক দশকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত শিক্ষা সংবাদ অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের প্রথম শ্রেণির শীর্ষস্থানীয় স্কুল-কলেজগুলোর মাসিক আয় কোটি টাকার ওপরে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে প্রতিষ্ঠানের তহবিল তছরুপ করার সেই পুরনো অপসংস্কৃতি আজও চলমান। অবিলম্বে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হওয়া বাঞ্ছণীয়।