
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ স্বরূপ’। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৭৩ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও একুশের চেতনা ও বাংলা ভাষা বড়ই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে বিরাজমান। আমরা ভুলতে বসেছি, একুশের চেতনা কি ছিল! বাংলাকে মাতৃভাষার দাবিতে ভাষা আন্দোলন হয়নি, বরং ছাত্ররা তাজা প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে। আর কালের বিবর্তনে এখন আমরা নিজেরাই নেমেছি মাতৃভাষা ধ্বংসের ‘যুদ্ধে’। সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বায়ন নামের অদ্ভুত এক স্বর্ণডিম্বের পেছনে ছুটছি আমরা।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তার ‘শিক্ষা ও বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন- ভারতীয় ছাত্র, যারা প্রতি বছর বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিতে যায়, তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিন চালাতে বললে তারা ভয় পায়। তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভ না করতে পারাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের (ইআইইউ)- প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে শতকরা ৪৭ ভাগ স্নাতকই বেকার। এর পেছনে একটা বড় কারণ হলো, দক্ষতার অভাব। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেই গবেষণায় বাংলা ভাষা যেন অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ!
হতাশার কথা হলো, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি। উচ্চশিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে বিদেশী ভাষা শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ বাধা হয়ে দেখা দেয়। তাই ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলা একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বই বাংলায় অনুবাদে প্রয়াসী হতে হবে। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে বাংলায় বক্তৃতা দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য সম্মানের আসনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। যার মাধ্যমে সম্মানিত হবে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা।
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়