
ছবিঃ সংগৃহীত
সাংবাদিক জিল্লুর রহমান তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রিফাইন্ড না বিদ্রোহী নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জিল্লুর বলেন, আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে নাকি ইতিহাসে রয়ে যাবে একটি দুঃসহ অধ্যায় হিসেবে। জুলাই মাসের রক্তাক্ত গণহত্যা ও দীর্ঘ ১৫ বছরের দমন-পীড়ন, গুম, খুনের অভিযোগের ভার নিয়ে আওয়ামী লীগ আজ একটি অনিশ্চিত মোডে দাঁড়িয়ে। অভ্যুত্থানের পর দলটির শীর্ষ নেতারা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধান বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাহায্যে দলটি গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আওয়ামী লীগকে নিয়ে এখন দুইটি বিকল্প ভাবনার আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, প্রথম বিকল্প হচ্ছে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে একটি বিদ্রোহী দল গঠন করা, যার নাম দেওয়া হয়েছে রেবেল আওয়ামী লীগ।
দ্বিতীয় বিকল্প যেটি আলোচনার মধ্যে আছে সেটি হচ্ছে শেখ হাসিনার সম্মতিতে তার পরিবর্তে কিছু স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নেতৃত্বে একটি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠন করা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টে এই বিকল্প পদ্ধতি উঠে আসে। ছাত্রদের একটি বড় অংশ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের বিরোধী। তারা চায় আগে বিচারের মাধ্যমে দায় মিটাক তারপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে বিএনপি অন্যদিকে অতীতে বিএনপির সাথে থাকা দলগুলো খানিকটা বিএনপির সাথে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
একাংশ মনে করে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কেউ নেতৃত্বে এলে তা মেনে নেয়া যায়। অন্য অংশ বলছে কোন রকম ফ্যাসিবাদী পুনর্বাসন তারা মেনে নিবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খোলাখুলি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চলবে না। তবে বিএনপির কৌশলগত অবস্থান হচ্ছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হোক বা না হোক নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আগে বিচার ও দায় নিরূপণ করতে হবে।
এখানে উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রসঙ্গ, সেখানেও অপরাধ স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে অপরাধীদের রাজনীতিতে ফেরবার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও অনেকে এই মডেল অনুসরণ করে আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিতে চান, তবে শর্ত সাপেক্ষে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ দিবে কিনা, নিতে চাইবে কিনা সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। সরকারের এক উপদেষ্টা এই প্রক্রিয়া তদারক করছেন বলে জানা গেছে। যারা শেখ হাসিনাকে পরিত্যাগ করে দুঃশাসনের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাদের নির্বাচনে আসতে দিতে পারে।
রিফাত