ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

‘পুলিশ’ একসময় ছিল আতঙ্কের নাম, যা এখন হয়ে উঠছে জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ৬ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ০০:৪০, ৬ এপ্রিল ২০২৫

‘পুলিশ’ একসময় ছিল আতঙ্কের নাম, যা এখন হয়ে উঠছে জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক

ছবি: সংগৃহীত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী মোড়। ঐদিন পতিত হয় দীর্ঘদিনের বিতর্কিত স্বৈরাচারী শাসন, এবং এর সাথে সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিত্রও পাল্টে যেতে থাকে।

বিগত সরকারের সময় পুলিশের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। বিরোধী রাজনৈতিক দল, আলেম সমাজসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। গুম, খুন, রিমান্ডে নির্যাতন ছিল পুলিশের রুটিনওয়ার্ক।

তৎকালীন গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তর মিন্টু রোডের ডিবি অফিস ছিল যেন এক আতঙ্কের নাম। সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের আমলে এ অফিসটি হয়ে উঠেছিল 'যাত্রাপার্টি'র কার্যালয়, যেখান থেকে প্রতিনিয়ত চলত মিডিয়া-নাটক আর ক্ষমতার প্রদর্শনী।

৫ আগস্টের পর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার দায়িত্ব নেন অজানা এক কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক। তার নেতৃত্বে মাত্র কয়েক সপ্তাহে গোয়েন্দা পুলিশ অপরাধ দমনে দেখিয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য।

সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভারতের ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেফতার করে দেশকে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে রক্ষা করেছেন তিনি।

এই অভিযানের পর থেকে ডিবি প্রধান নিজ পরিবারকে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলেও দায়িত্বে আপোষ করেননি।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে রেকর্ড সংখ্যক অভিযান চালিয়ে সমাজে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছেন রেজাউল করিম মল্লিকের দল।

ঢাকা ও অন্যান্য শহরের মানুষ এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা, লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন—সবখানেই ছিল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ নিরলস পরিশ্রম করেছে ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে।

বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম সোজাসাপটা ভাষায় স্বীকার করেছেন—বিগত সরকার পুলিশকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমা চাই, কিন্তু একইসঙ্গে অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিচারের মুখোমুখিও করব।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে যেসব পুলিশ সদস্য নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালিয়েছে, তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”

নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের মধ্যে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন থানা, টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পুলিশকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে উৎসাহিত করেছেন, এবং পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।

৫ আগস্টের পর গোটা দেশ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। নতুন প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ফিরছে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশে।

পুলিশ, যা একসময় আতঙ্কের নাম ছিল, এখন ক্রমেই হয়ে উঠছে জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক।

নুসরাত

×