ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

ওয়াক্ফ বিলের প্রতিবাদে ভারতে বিক্ষোভ

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩৩, ৬ এপ্রিল ২০২৫

ওয়াক্ফ বিলের প্রতিবাদে ভারতে বিক্ষোভ

ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত মুসলিম ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে

ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত মুসলিম ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও আহমেদাবাদে হাজার হাজার লোক রাজপথে নেমে নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এসব শহর।

অসংখ্য মানুষ হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে। এতে লেখা ছিল, ‘আমরা ওয়াক্ফ সংশোধনী মানছি না’, ‘ওয়াক্ফ বিল প্রত্যাহার করুন’।
শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই মুসলমানরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। এদিন কলকাতায় প্রতিবাদের বহর ছিল সবচেয়ে বড়। গুজরাটের আহমেদাবাদেও এদিন ওয়াক্ফ সংশোধনীর বিরোধিতায় পথে নামেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। খবর আলজাজিরা ও বিবিসি অনলাইনের। 
সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশকে চড়াও হতে দেখা গেছে। ওয়াক্ফ সংশোধনীর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রবীণরা রাস্তায় বসলে তাদের জোর করে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে গুজরাট পুলিশ। চেন্নাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াক্বিলের প্রতিবাদে রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দেয় অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল তামিলাঙ্গ ভেত্তরি কাঝাগাম (টিভিকে)।

টিভিকে কর্মীরা শুধু চেন্নাই নয়, সেইসঙ্গে তামিলনাড়ুর অন্যান্য বড় শহরেও বিপুল জমায়েত করেন। আন্দোলনের ঝাঁজ ছড়িয়ে পড়ে কোয়েম্বাটোর এবং তিরুচিরাপল্লির মতো শহরেও। বিক্ষোভকারীরা সমবেতভাবে স্লোগান তোলেন, ‘ওয়াক্ফ বিল প্রত্যাহার করুন’, ‘মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নেবেন না’।
ওয়াক্ফ বিল নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেন, বাংলার মুসলমানদের অধিকার ক্ষুণœ হতে দেব না। জাতীয়ভাবে বিজেপির প্রধান বিরোধী কংগ্রেসও ওয়াক্ফ বিলের তুমুল বিরোধিতা করেছে। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে।
পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাস হয়। দীর্ঘ বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার রাতে ১২৮-৯৫ ভোটে বিলটি পার্লামেন্টের শেষ বৈতরণী পার করে। ওয়াক্ফ বিল পাস হতে না হতেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয় মামলা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি মুসলিম সংগঠন থেকেই মামলা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড জানিয়েছে, এই আইনের বিরুদ্ধে তারা দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে।
ওয়াক্ফ বিল সমর্থন করায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুইদিনে ৫ নেতা দল ত্যাগ করেছেন। ওই ৫ নেতার মধ্যে ৪ জন মুসলিম হলেও একজন হিন্দু। রাজু নায়ার নামে ওই হিন্দু নেতা তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘দলের ভূমিকায় আমি হতাশ। এটি আরেক কালা আইন। মুসলিমদের ওপর অত্যাচার ও অবিচার এতে আরও বাড়বে।’
বিহারে জেডিইউতে অসন্তোষ আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে। এই বছরের শেষে ওই রাজ্যে বিধানসভার ভোট। জেডিইউ মুসলিম ভোট না পেলে তা নিশ্চিতই বিরোধী শিবিরে জমা পড়বে। তাতে বিজেপির ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই ভাবনা রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে রয়েছে।
বিজেপি অবশ্য বারবার বলতে চাইছে, এই আইন মুসলিমদের ধর্মাচরণে বাধা হবে না। এই আইন মুসলিম সমাজের মঙ্গলের জন্যই করা। বিরোধীদের উৎসাহ ও জেডিইউতে অসন্তোষের পাশাপাশি কোমর কষতে শুরু করেছে বিজেপি। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, যেসব সম্পত্তি ওয়াক্ফ আইন হওয়ার আগে নথিভুক্ত করা হয়নি, তার তালিকা প্রস্তুত করতে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড জানিয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টে এই আইন চ্যালেঞ্জ করবে। তারা ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আবেদন জানিয়েছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। যেমন ২০১৯ সালে মামলা করেছে সিএএর বিরুদ্ধে। সেই মামলার এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

তথ্যের অধিকার আইনে সংশোধনী আনার বিরুদ্ধেও কংগ্রেস মামলা করেছে, তা এখনো চলছে। জয়রাম রমেশ আরও বলেন, ১৯৯১ সালে উপাসনালয়ের চরিত্র অক্ষুণœ রাখতে কংগ্রেস সরকারই আইন করেছিল। সেই আইনের চরিত্র যাতে অটুট থাকে, সেজন্যও কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রেখে কংগ্রেস ওয়াক্ফ আইনকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে।

×