ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

সতর্ক থাকলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব

সারাদেশে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

আসিফ হাসান কাজল

প্রকাশিত: ০০:২৯, ৬ এপ্রিল ২০২৫

সারাদেশে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

চৈত্রের অসহ্য গরমে শনিবার সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি স্বস্তি বয়ে আনে রাজধানীবাসীর মাঝে

দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বইছে গরমের দাপট। গ্রীষ্মের সময় তাপমাত্রা সেভাবে কমে না। শুধু ঝড়, বজ্রবৃষ্টি হলেই এক-দুইদিন তাপমাত্রার পারদ নেমে আসে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্নস্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সেটি না করলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীতে দমকা বাতাসের সঙ্গে এক পশলা বৃষ্টি নাগরিক জীবনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে। সন্ধ্যায় ঢাকার ওপর দিয়ে ৪০ কিলোমিটার বেগে বয়ে গেছে মাঝারি ধরনের মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ঢাকার বাইরে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবছর গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যে বজ্রপাতে ৩০০-৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়। যার প্রধান কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে না চলা। এ ছাড়াও নাগরিকদের মধ্যে কুসংস্কার রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জনকণ্ঠকে বলেন, বজ্রঝড়ের চারটি বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে বজ্রবৃষ্টি, দমকা হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টিপাত। এ সময় কিছু নিয়ম মেনে চললেই ব্যাপক প্রাণহানি কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিদিনই বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। নদী তীরবর্তী এলাকা, নৌঘাট ও সাধারণ মানুষকে নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
তিনি বলেন, বজ্রপাতের শব্দ থেকে বাঁচতে বজ্রধ্বনি শুনলেই ঘরের মধ্যে চলে যেতে হবে। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখা ভালো। এ সময় কোনো অবস্থায় ভ্রমণ করা যাবে না। যারা ঘরের বাইরে থাকবেন, তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থান খুঁজতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই বড় গাছের নিচে বা ছোট গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বাসায় থাকলেও ইলেকট্রনিক্স আনপ্লাগ করতে হবে। ধাতব বস্তু বিশেষ করে, যে সব ধাতু বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তার থেকে দূরে থাকতে হবে।

এই আবহাওয়াবিদ বলেন, শিলাবৃষ্টি দেখলেই অনেকে শিলা তুলতে যান। এটি চরম ভুল। কারণ, শিলাবৃষ্টি বরাবর বজ্রপাতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। আবার অনেকে মাঠে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকেন। এটি করলেও বজ্রপাত থেকে ক্ষতি এড়ানো যায় না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বজ্রঝড় বুঝতে হবে। আকাশে হিমালয় সমান কালোমেঘ ও এর মধ্যে বজ্রপাতের উপস্থিতি দেখা গেলে বুঝে নিতে হবে বজ্রপাত আসন্ন। বজ্রঝড় শুরুর ৩০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা নিরাপদে থাকলেই অকাল এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। 
আবহাওয়াবিদরা জানান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, নীলফামারী,  রাঙ্গামাটি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা  অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে বৃষ্টির বার্তাও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় শনিবার অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যুৎ চমকাতে পারে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী এবং রাঙ্গামাটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। 
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আজ শনিবার বিকেলের দিকে রাজধানী ঢাকার দুই-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকায় মৃদু বাতাস চলাচল দেখা গেছে। এদিন ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, নরসিংদী জেলায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে হিট ওয়েভ চলছে। যা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে বজ্রবৃষ্টি হলে এর প্রভাবে তাপমাত্রা এক-দুইদিন কম থাকবে। তবে এরপর আবার বাড়তে শুরু করবে। 
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জনকণ্ঠকে বলেন, শীঘ্রই গরমের অনুভূতি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, বাতাসের গতিবেগ কম। এদিকে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিও বেশি। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রার পার্থক্যও অন্যতম কারণ। কারণ, আমরা দেখছি অন্তত সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রার পার্থক্য অন্তত ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রবিবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যুৎ চমকাতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।  সোমবার সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যুৎ চমকাতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সামান্য কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা। মঙ্গলবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

×