ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

আগামী বছরেও ফেরত পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না ॥ প্রেস সচিব

নাগরিকত্ব ছাড়া ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ

প্রকাশিত: ০০:২২, ৬ এপ্রিল ২০২৫

নাগরিকত্ব ছাড়া ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা

নাগরিকত্ব ছাড়া ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গার নিজ দেশে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার পক্ষ দীর্ঘ সময় পর নতুন করে মুখ খুলেছে। মিয়ানমার সরকার পক্ষে এটি নতুন কোনো কূটকৌশল কি না, বিভ্রান্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কি না- তা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেননা, প্রত্যাবাসনের পূর্বে রোহিঙ্গাদের প্রদত্ত কোনো দাবিই মিয়ানমার সরকার এখনো মেনে নেয়নি।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সে দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি যেহেতু এখনো অনুকূলে নয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের ইস্যুটি নিয়ে তাদের ইচ্ছার বহির্প্রকাশ ঘটানোটি নতুন বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা কি নাÑ সেটা নিয়েও সন্দেহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। আর রোহিঙ্গারাও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রক্রিয়ায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বসহ তাদের প্রদত্ত দাবি মানা না হলে ফিরে যাবে না। এ ছাড়া জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও এ অবস্থা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মত দেবে না।
২০১৭ সালের ৫ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হয়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গণহারে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্বিচারে গণহত্যার হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। মানবিক কারণে সরকারও রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে তখন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। তবে সরকারি-বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি। অর্থাৎ সাড়ে ১১ লাখ নিরুপিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফাঁক ফোকরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আরও রোহিঙ্গা দল বাংলাদেশে চলে আসে। এ ছাড়া প্রতি বছর গড়ে ৩০ হাজারও বেশি রোহিঙ্গা শিশু আশ্রিত ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নিচ্ছে। সরকারের পক্ষে দফায় দফায় মিয়ানমার পক্ষের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তারা এগিয়ে আসেনি।

শুধু বাংলাদেশ সরকার নয়, বিশে^র শক্তিশালী বিভিন্ন দেশের পর্যায়ক্রমে আবেদন নিবেদনের পরও মিয়ানমারের জান্তা সরকার এতে রাজি হয়নি। অপরদিকে, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকেও প্রত্যাবাসনের পূর্বে তাদের ৭টি দাবি পূরণে জান্তা সরকারের প্রতি পর্যায়ক্রম আহ্বান জানানো হয়। রোহিঙ্গারা বারবার বলে আসছে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু তার আগে তাদের দাবি মানতে হবে। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে ৩টি। প্রথমত, তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তাদের ফেলে আসা ভিটাবাড়ি ফেরত দিতে হবে। তৃতীয়ত, নিজ দেশে ফিরিয়ে গিয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরার সযোগ দিতে হবে। এসব দাবিতে রোহিঙ্গারা এখনো অটল অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২৩ সালে মিয়ানমার সামরিক জান্তা সরকারের আমন্ত্রণ এক দল রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছিল। ফিরে এসে রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছিল, সেখানে তাদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই তারা সেখানে ফিরে যেতে রাজি নয়। 
বর্তমানে জান্তা সরকার এসব দাবির কোনোটিই মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে গত শুক্রবার থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলন চলাকালীন সময়ের এক ফাঁকে সে দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমানকে জানালেন, তারা ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত আছে।

এ সংখ্যক রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার উপযোগী। এ ছাড়া আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই চলছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইতোপূর্বে প্রদত্ত তালিকার আরও সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। 
উল্লেখ করা যেতে পারে, রোহিঙ্গাদের মূল আবাসভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। এই রাজ্যটির বিশাল অংশ বর্তমানে সে দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এ এ) দখলে ও নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ বুচিডং, রাচিডং এলাকাও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। রাজ্যটি যখন জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছে।

বৈশি^ক ফোরামে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছে। এ প্রক্রিয়ায় বৈশি^ক ফোরাম, জাতিসংঘের চাপ ইত্যাদি সত্ত্বেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার এগিয়ে আসেনি। এখন মিয়ানমার সরকার জানান দিয়েছে তারা প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে রাজি। কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব তা এখনো জানানো হয়নি। 
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে নতুন ছলচাতুরীতে নেমেছে কি না। কেননা, রাখাইন রাজ্য যখন জান্তা সরকারে নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন তারা এগিয়ে আসেনি। আর বর্তমানে এই রাজ্যটি যখন তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে তখন তারা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আগ্রহ জানাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, জান্তা সরকার যেমন রোহিঙ্গাদের বিরোধী, অনুরূপভাবে আরাকান আর্মিও রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাব নিয়ে আছে।

এদের কোনো পক্ষই রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক মনে করে না। এ ধরনের একটি জটিল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জান্তা সরকার নতুন কোনো ছক এঁকেছে কি না তা নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়াও প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের কোনো দাবিই জান্তা সরকার  এখনো যেহেতু মেনে নেয়নি, সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে আগ্রহী নয়। এর পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিশ^ ফোরামও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঠিক হবে না বলে আগেই জানিয়ে রেখেছে। 
শুক্রবার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজিÑ এ ধরনের খবর চাউর হওয়ার পর ওই দিন এশার নামাজের পর উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের পৃথক পৃথক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে তারা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফিরে না যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্প ও নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস রয়েছে।

এদের অনেকে তালিকাভুক্ত। আবার অনেকে তালিকাভুক্ত নয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ৬৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার রেকর্ড রয়েছে। এসব ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কেউ বসেনি। কেউ ব্যবসা, কেউ চাকরি ইত্যাদি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। সরকার ও বিভিন্ন এনজিওর প্রদত্ত ত্রাণসামগ্রী নগদ টাকায় বিক্রি করে দিয়েও থাকে। যুবক-কিশোরীদের কেউ কেউ চালাচ্ছে ইজিবাইক। কেউ কেউ সিএনজিও চালাচ্ছে। শনিবার বিকেলে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে প্রধান ফটক ও সংশ্লিষ্ট প্রধান সড়কে দেখা গেছে, শত শত রোহিঙ্গাকে বহনকারী টমটম।

এদের মধ্যে ৭০ ভাগ চালকই হচ্ছে রোহিঙ্গা। অদক্ষ রোহিঙ্গা চালকদের কারণে কক্সবাজার, টেকনাফ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামও লেগে থাকে। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময়েও দুর্ঘটনা ঘটনাও ঘটেছে। অপরিপক্ষ রোহিঙ্গা চালকদের কারণে স্থানীয়রা জরুরি সময় কোথাও যাওয়ার সুযোগও পায় না।

বালুখালী ও কুতুপালং দুটি বাজার বসানো হয়েছে প্রধান সড়ক লাগোয়া। সড়কের পাশে বসে হরহামেশা নানা পণ্য বিকিকিনিতে নিয়োজিত রয়েছে রোহিঙ্গারা। অথচ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাওয়াও নিষেধ। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে চলা-ফেরা তো করছেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও পিছিয়ে নেয়। 
উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয়রা মনে করেন, ত্রাণসামগ্রী পাওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি চালিয়ে বাড়তি রোজগারের সুযোগ পেয়েছে সেখানে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে গিয়ে ক্যাম্প জীবনে যাওয়ার অবকাশ থাকতে পারে না। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও মতে এরা এ দেশের জন্য বিষফোঁড়া।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ৭ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মিয়ানমার সরকার যেমন এদের ফিরিয়ে নিতে কোনো গরজ অনুভব করে না, তেমনি রোহিঙ্গারাও নাগরিকত্বের বাহানা দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়। 
এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকার পক্ষে প্রথম ধাপ ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সম্মত থাকার বিষয়টি কল্পনাপ্রসূত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে রোহিঙ্গাদের তালিকা করে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার আগ্রহ দেখিয়েছিল। তখন রোহিঙ্গারা বিশাল সমাবেশ করে জানান দিয়েছিল রাখাইন রাজ্যে তাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নেই। নাগরিকত্বসহ ৭ দাবি পূরণ না হলে তারা ফিরে যাবে না। এরপর লম্বা সময় অতিবাহিত হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখায়নি। এখন তারা বলছে, তারা ফিরিয়ে নিতে চায়। বিষয়টি খুবই জটিল বলে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অনেকের মতে, এটি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একটি কূটকৌশল। তারা বিশ^কে জানান দিতে চায় তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী। কিন্তু রোহিঙ্গারা আগেই বেঁকে বসেছে এই বলে যে, নাগরিকত্ব ছাড়া তারা ফিরে যাবে না। তা হলে ফলাফল কী দাঁড়াল? এটি কি ¯্রফে আই ওয়াশ নয়?

তারা নিজ দেশে নাগরিকত্ব ছাড়া ফিরেও যাবে কেন? রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকার বুলডোজার দিয়ে মিয়ানমারের বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। তাদের ভিটামাটির কোনো অস্তিত্বও নেই। এই অবস্থায় মিয়ানমার পক্ষ আগেই জানান দিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে রাখা হবে। বেঁচে থাকার জন্য রেশন দেওয়া হবে। রোহিঙ্গারা বলছে, বাংলাদেশে ক্যাম্প জীবন তাদের জন্য নিশ্চিত। মিয়ানমারে অনিশ্চিত ক্যাম্প জীবনে তারা ফিরে যেতে আগ্রহী নয় এবং এটিই বাস্তবতা। 
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও বলেছেন, সাম্প্রতিক মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি যে পরিস্থিতি উদ্ভব করেছে এতে করে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেছেন। 
প্রেস সচিব বলেন, বার্মিজ জান্তাকে খুশি করতে গিয়ে তথাকথিত ‘মাদার অব হিউমেনিটি’র চাটুকার ও কূটনীতিকরা একটি নতুন শব্দ এফডিএমএন  (ফোর্সিভলি ডিসপ্লেইসিড মিয়ানমার ন্যাশনাল)-এর উদ্ভাবন ঘটান। এ শব্দটি শুধু একটি কৌশল নয়, এটি বার্মিজ গণহত্যার বর্ণনাকে বৈধতা দেওয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। এতে বোঝানো হয় যে, রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই, কিন্তু বাস্তবতা হলো রোহিঙ্গারা কোনো এফডিএমএন নয়, তারা শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক একটি জাতি।

এফডিএমএন শব্দটি ব্যবহার করে তাদের প্রকৃত পরিচয়, সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, চীনের কুনমিন শহরে এবং ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান যখন মিয়ানমারে সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা করে, তখন তারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত করে রোহিঙ্গা হিসেবে।

জান্তার কর্মকর্তারাও শেষমেশ এই পরিচয় স্বীকার করতে বাধ্য হন। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তারাও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে বিষয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে, আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। বিশেষ করে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল প্রক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে গত কয়েকদিনে যেটা দেখেছি তা আমাদের নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান। মিয়ানমার জান্তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার টানা কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়।

×