ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

কুমিল্লায় সাবেক রেলপথমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ২২:১৫, ৫ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২২:১৭, ৫ এপ্রিল ২০২৫

কুমিল্লায় সাবেক রেলপথমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গ্রামের বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মুজিবুল হক কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের পাঁচবারের এমপি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্বপরিবারে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দুই শতাধিক লোকজনের সংঘবদ্ধ একটি দল শনিবার বিকালে সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা তিন তলা ভবনের নিচতলায় ও দোতলায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ভবনে লুটপাট শেষে নিচতলার দরজা-জানালা ভাঙচুরসহ বাড়ির জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এছাড়াও ওই বাড়িতে মন্ত্রী মুজিবুল হকের ভাই ও ভাতিজাদের বেশ কয়েকটি ঘরে একইভাবে লুটপাটসহ ভাঙচুর করা হয়। এসময় তার এক ভাই আবদুল মতিনের ছেলে জজ আবদুস সালামের ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় এবং আগুন দেওয়া হয়।

মুজিবুল হকের ভাতিজা তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, 'স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা আমার চাচা মুজিবুল হকের ভবনসহ বাড়ির বেশ কয়েকটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন দিয়েছে। তারা দুইটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এসময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'

এদিকে এ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিওচিত্র ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

সূত্র জানায়, এর আগে মুজিবুল হকের এক ভাতিজা আহসান উল্লাহ স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে গালমন্দসহ হুমকি-ধমকি দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার বিকালে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তর পদুয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রাত ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন জানান, 'মুজিবুল হকের ভাতিজা আহসান উল্লাহ ও তার সহযোগীরা শনিবার দুপুরের দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা জেলা ছাত্র শিবিরের নেতা মহিউদ্দিন রনিকে লাঞ্চিত করেছে বলে জেনেছি। এর জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হামলার সময় মহিউদ্দিন রনি ছিল না। হামলার ঘটনার সাথে দলের কোনো বিষয় নেই।'

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, 'খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও আসে। এর আগে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং হামলাকারীরা চলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'

মীর শাহ আলম/রাকিব

×