
ছবিঃ সংগৃহীত
কবি, সিনিয়র সাংবাদিক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার বলেন, “হাজার হাজার মানুষ হত্যার অপরাধে তাকে আমরা গাছে লটকাবো, তবে সেটা বৈধভাবে বিচার করেই।” সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এই যে বিমসটেক সম্মেলনে গেলেন মোদি মিয়া—কম কচড়া করেননি। দেখা করবেন না—কত রাগ উনার! উনি জানেন, দেখা করলেই আমরা জানতে চাইব যে আমাদের মহামন্ত্রী হাসিনা খাতুনকে ফেরত দেন। মোদি বলেন, ‘হাসিনাকে ফেরত দেব না, হাসিনা আমার।’ হাসিনা নাকি ‘ওর’। আমি বলি, বিয়ে কর, বৈধ স্ত্রী কর। অবৈধ স্ত্রী নিয়ে সংসার করা ঠিক না। তুই ঘোষণা কর, জাতি ও পৃথিবীর সামনে বল যে হাসিনা আজ থেকে তোর স্ত্রী—তাহলে আমরা মাফ করে দেব। আর যদি সেটা ঘোষণা না করো, তাহলে ওটাকে আমাদের কাছে ফেরত দাও। আমরা তাকে লটকাবো। হাজার হাজার মানুষ হত্যার অপরাধে আমরা তাকে গাছে লটকাবো—বৈধভাবে বিচার করে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের মতো করে আমরা অন্যায়, অপকর্ম, খুন, গুমের সঙ্গে যুক্ত হব না। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে, আইনানুগভাবে সাতবার ফাঁসি দেব।”
বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, “বাংলাদেশ তখন ছিল উত্থানহীন, কোনো রাস্তা ছিল না বের হয়ে আসার। সেই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁক বেঁধে রাজপথে নেমে এসেছে। তারা দুঃশাসন, অপশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। এ আন্দোলনে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে প্রায় ২,০০০ তরুণ-তরুণী। ৩ হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে, অন্ধ হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ আমরা মুক্ত, স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই আমাদের সেই বীর শহীদ ভাইদের প্রতি—জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি।”
আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, “আমরা যেন কখনো আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রুদ্র, ওয়াসিম আকরাম, রিয়া গোপ—তাদের কথা ভুলে না যাই। যদি ভুলে যাই, সেটা হবে বিশ্বাসঘাতকতা। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকেও বলব—দলাদলি, হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি যথেষ্ট হয়েছে। এবার মাথা ঠান্ডা করুন, সবাই মিলে একসাথে বসুন।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “জুলাই রেভুলেশনের যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, জাতীয় জীবনে সেই ঐক্যে যেন কোনো ফাটল না ধরে। যদি ফাটল ধরে, তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবার ভারতের গোলাম, ভারতের দাসে পরিণত হবে। আমরা কি আমাদের মাতৃভূমিকে আবার ভারতের দাসে পরিণত করতে চাই? যদি না চাই, তাহলে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”
ইমরান