ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশের যে কৌশলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হলো মিয়ানমার

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ৫ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশের যে কৌশলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হলো মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশ দীর্ঘ ৮ বছর পর মিয়ানমারের কাছ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। মিয়ানমার এখন ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার জন্য উপযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মিয়ানমারকে কীভাবে রাজি করা হলো, এবং কোন কৌশল ব্যবহৃত হল, এবার সেই কৌশল সম্পর্কে জানা গেল।

প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার তার ফেসবুক পোস্টে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের শক্তিশালী অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধান উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

আজাদ মজুমদার তার পোস্টে লিখেছেন, “রয়টার্স, ইএফই এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মতো একাধিক সংবাদমাধ্যমে আমি প্রায় দুই দশক ধরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছি, ক্যাম্পে গিয়েছি এবং তাদের দুর্দশা সম্পর্কে অনেক গল্প লিখেছি, বিশেষ করে ২০১৭ সালের গণহত্যার পর।” তিনি আরও বলেন, “কখনো ভাবিনি যে আমি সংকটের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করব, যা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবাসনের দরজা খুলে দেবে।”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে আজাদ মজুমদার জানান, "গতকাল ব্যাংককে, বাংলাদেশ প্রথমে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়, কারণ তাদের নেতা বিআইএমএসইসি ভাষণে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাঙালি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরে, মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে রাজি হওয়ায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।"

ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আরও লেখেন, "খলিলুর রহমান কীভাবে পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেছেন, তা দেখে আমি অবাক হয়েছি। এমনকি তিনি মিয়ানমার কর্মকর্তাদের 'রোহিঙ্গা' শব্দটি বলাতে সক্ষম হয়েছেন, যা কোনো ছোট অর্জন নয়। স্যালুট।"

এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক জয়ের একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সায়মা ইসলাম

×