
ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন।
গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র সাইয়েদ আব্দুল্লাহ জুলাইয়ে আহত হৃদয়ের মৃত্যুতে আজ শনিবার নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস লিখেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি হৃদয়ের মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা, মৃত্যুর পরে তাঁর (হৃদয়) বাবা ও বড় ভাইয়ের আক্ষেপ তুলে ধরেছেন।
সাইয়েদ আব্দুল্লাহ লিখেছেন, 'অবশেষে মারাই গেছে হৃদয়। ১৭ বছর বয়সী হৃদয় ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতো, গ্রামের বাড়ি ছিলো পটুয়াখালীতে। ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয় হৃদয়। তার মাথার ভেতর তিনটা গুলি ছিলো।'
এছাড়া, সাইয়েদ আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে হৃদয় মারা যাওয়ার পরে তাঁর বাবা আনসার হাওলাদারের আক্ষেপ তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, "হৃদয়ের বাবা বলেছে, 'ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। নিজের রিকশা ও একটি গরু বিক্রির টাকা দিয়ে যতটুক পেরেছি ততটুক চেষ্টা করেছি।"
হৃদয়ের বাবার আক্ষেপভরা বক্তব্য হিসেবে তিনি আরও লেখেন, 'হৃদয়ের মাথার তিনটি গুলির দুটি বের করেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। আরেকটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে আমার ছেলে হয়তো বেঁচে থাকতো।'
সাইয়েদ আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তুলেছেন, হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার যেই প্রসঙ্গ তুলেছেন, জুলাইয়ের আহতের চিকিৎসা দেখভাল করার দায়িত্বশীল, জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা সরকার অথবা জুলাই নিয়ে যারা সারাক্ষণ চেতনার ব্যবসায় মজে আছে তাদের কারও সেটার উত্তর দেওয়ার কোন সক্ষমতা আছে কিনা।
সূত্র: https://www.facebook.com/share/18V6enYaz4/
রাকিব