ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

বিমসটেক সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য উন্মোচিত সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ৫ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৩:০৬, ৫ এপ্রিল ২০২৫

বিমসটেক সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য উন্মোচিত সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে, পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষর এবং সাইডলাইন বৈঠকের মাধ্যমে দেশের স্বার্থে কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনও সুরক্ষিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব বৈঠক সফল হলে হবে না, তার সঙ্গে অবশ্যই অগ্রগতি এবং কার্যকর বাস্তবায়নও প্রয়োজন।

এবারের সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ডক্টর খলিলুর রহমানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ড. ইউনূস ও মোদি বৈঠক, থাই এলিটদের কাছ থেকে আসিয়ান সদস্যপদ পাওয়ার জন্য সমর্থন চাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ আরও কিছু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বৈঠক করলে হবে না, বরং সেই বৈঠকগুলোর ফলস্বরূপ বাস্তবায়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিপিডির গবেষণা পরিচালক জানান, "এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি হচ্ছে বিমসটেকের সেক্রেটারিয়েটের অবস্থান বাংলাদেশে। আশা করা হচ্ছে, এই সেক্রেটারিয়েটটি শুধুমাত্র বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত, মেরিটাইম কানেক্টিভিটি ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাইরের দেশগুলোর সাথে কানেক্টিভিটি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

বিশ্লেষকরা আরও মন্তব্য করেছেন, ভারত এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব রয়েছে, যা বিমসটেকের কার্যক্রমের সঠিকভাবে বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা বলেছেন, "দুই বড় দেশের উচিত, বিমসটেক কোঅপারেশনকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করা।"

এছাড়া, দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির জন্য কিছু অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, "প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় পরস্পরকে আশ্বস্ত করা প্রয়োজন, যাতে কোনও দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু না হয়। সম্পর্কের আদর্শিক দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায়, দুদেশেরই অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।"

সার্বিকভাবে, ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে, এসব অর্জনকে কাজে লাগাতে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।


সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=vfb8O5tpFnw

আবীর

×