ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

বগুড়ার কলেজ ছাত্র খায়রুলের সততায় ১৮ ভরি স্বর্ণ ফিরে পেল মালিক

মাহফুজ মন্ডল, বগুড়া

প্রকাশিত: ১২:০০, ৫ এপ্রিল ২০২৫

বগুড়ার কলেজ ছাত্র খায়রুলের সততায় ১৮ ভরি স্বর্ণ ফিরে পেল মালিক

ছবি: সংগৃহীত

সমাজে ভালো মানুষ নেই এই কথাটি যারা বলেন, তারা হয়তো খেয়াল করেন না, মাঝে মাঝেই মানুষের মাঝে জেগে ওঠে কিছু বিবেকবান প্রাণ। যারা প্রমাণ করে, অন্ধকারের মাঝেও সততার আলো জ্বলে। তেমনই একজন তরুণ বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম।

সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালান খায়রুল। জীবিকার প্রয়োজনে শহরের পথে পথে যাত্রী বহন করলেও, মন গড়ে তুলেছেন একজন শিক্ষার্থীর মতো জ্ঞানপিপাসু, নীতিবান এবং স্বপ্নে ভরপুর।

ঈদের আগে ২৯ মার্চ। পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন ব্যবসার কাজে বগুড়ায় আসেন। ১৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে করে নিয়ে একটি সিএনজিতে উঠেন। বনানী এলাকায় পৌঁছে একটি বাসে উঠতে গিয়ে তাড়াহুড়োর মধ্যে ভুলে সেই ব্যাগটি ফেলে যান সিএনজিতে। পরে শাজাহানপুরে গিয়ে ইফতারের সময় ব্যাগটির কথা মনে পড়তেই দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সিএনজিতে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি কুড়িয়ে পান খায়রুল ইসলাম। কোনো লোভ তাঁকে ছুঁয়ে যায়নি। বরং সোজা যোগাযোগ করেন পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের মাধ্যমে বগুড়া সদর থানার ওসির সঙ্গে। স্বর্ণভর্তি কালো ব্যাগের মূল মালিককে খুঁজে পাওয়ার পর ৪ এপ্রিল শুক্রবার রাতে বগুড়া সদর থানার ওসি একেএম মঈন উদ্দীনের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিকের হাতে অক্ষতভাবে তুলে দেয়া হয় কালো ব্যাগটি। পাবনার স্বর্ণ ব্যবসায়ী শাহীন তার হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের ব্যাগটি ফিরে পেয়ে আনন্দে সবার সামনে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তিনি বলেন, "এখনো পৃথিবীতে সৎ মানুষ আছে। আর সৎ মানুষ আছে বলেই আজ আমার ব্যবসার সম্বল ১৮ ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সব কিছুই ফিরে পেলাম অক্ষত অবস্থায়।" ব্যাগে থাকা স্বর্ণ ও টাকা সবকিছুই ছিল হুবহু আগের মতো। তার এই সততা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা প্রশংসা করছেন এই তরুণের বিবেকবান আচরণকে।

কলেজ ছাত্র খায়রুল বলেন, “জীবনে অনেক কষ্ট আছে, কিন্তু কারো সম্পদ নিয়ে আমি কখনো সুখী হতে পারতাম না। এই কাজটা করে আমি নিজের কাছে গর্বিত।” খায়রুলের এই কাজ আবার প্রমাণ করল, সমাজকে বদলাতে লাখো মানুষের দরকার নেই প্রয়োজন কিছু সাহসী হৃদয়, যারা অন্যায়ের ভিড়ে ন্যায়ের পতাকা উঁচিয়ে ধরতে জানে। জোরালো ভাষণ কিংবা ক্যামেরার ঝলকানি হয়তো নেই তার চারপাশে। কিন্তু তার এই একটি কাজ হয়ে উঠেছে সমাজের আয়না, যেখানে মানুষ নিজেকে ফিরে দেখছে নতুন আস্থায়। ভালো মানুষ এখনো আছেন। আর তারা আছেন বলেই পৃথিবীটা এখনো এত সুন্দর।

আবীর

×