
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তুলে ধরেছেন তাঁর আন্দোলনকালীন সময়ের কঠিন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “প্রতিদিনই খবর আসছে মানুষ মারা যাচ্ছে এবং ঠিক ওরকম একটা মুহূর্তে যখন আমাকে গুম করা হলো, তখন অনেকের ধারণা হয়ে গেছিল, হয়তো আমি শহীদ হয়েছি বা মারা গেছি। আমার পরিবার একটা সময় হাসপাতালের মর্গেও আমার লাশ খুঁজেছে।”
আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবের পেছনে দীর্ঘ রাজনৈতিক সক্রিয়তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমাদের আন্দোলনটা তো শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন দিয়ে। কিন্তু যারাই এই আন্দোলনের সামনের দিকে ছিলাম, শুরু থেকে অর্গানাইজিং জায়গাগুলোতে কাজ করেছি, সবারই, অধিকাংশেরই একটা জার্নি আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিভিন্ন অত্যাচার, নির্যাতন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করার প্রতিবাদ করার একটা ছয়-সাত বছরের জার্নি আমাদের ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনটা যে একটা চাকরির আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে যেতে পারে এবং সেই জায়গায় নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এই দীর্ঘ জার্নিটার একটা অবদান আছে, আমি মনে করি। এবং আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী যেই অবস্থান এই দীর্ঘ ছয়-সাত বছর একটিভিজমের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে, সেই দৃঢ় মানসিক অবস্থান থেকেই এই আন্দোলনে যখন হত্যাযোগ্যটা শুরু হলো, তখন আন্দোলনটা একপ্রকার গণভুত্থানের দিকে ধাবিত হতে থাকে।”
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বাংলাদেশের জনগণ। জনগণের মধ্য থেকেই স্তস্ফুর্তভাবে এই চাওয়াটা হাজির হয়েছে, ধীরে ধীরে-যে আমরা শেখ হাসিনাকে আর চাই না। আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে আর চাই না। এবং সেই চাওয়াটার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা কিছু ক্ষুদ্র ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে।”
উপস্থাপকের এক প্রশ্নে-গুম হওয়ার সময় পরিবারের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার পরিবার তো গ্রামে ছিল সে সময়। কিন্তু পরিবার সবসময়ই প্যানিকড অবস্থায় ছিল। কারণ প্রতিদিনই খবর আসছে মানুষ মারা যাচ্ছে, এবং ঠিক ওরকম একটা মুহূর্তে যখন আমাকে গুম করা হলো তখন অনেকের ধারণা হয়েছিল আমি শহীদ হয়েছি বা মারা গেছি। এবং পরিবার একটা সময় হাসপাতালের মর্গেও আমার লাশ খুঁজেছে।”
তিনি বলেন, “তখন এমন পরিস্থিতি ছিল যে অধিকাংশ পরিবারই হয়তো হাসপাতালের মর্গ থেকে তাদের সন্তানদের লাশ উদ্ধার করছিল। যখন প্রথম দফায় ক্র্যাকডাউন হয়, প্রায় ৩০০ জনের মত শহীদ হন। সে সময়টার কথা বলছি। পরিবারের জন্য খুব কঠিন সময় ছিল। শুধু এই সময় না, যেহেতু দীর্ঘ ছয়-সাত বছর আমরা একটিভিজমের সাথে ছিলাম এবং আওয়ামী লীগের নানা ধরনের ক্র্যাকডাউনের শিকার হয়েছি, একাধিক মামলা ছিল, এবং জেলেও ছিলাম একটা সময়। পুরোটা সময় পরিবারের জন্য ছিল একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতি,সন্তানের কি হয়ে যায়, কখন কি হয়ে যায়।”
তবে সেই দুর্বিষহ বাস্তবতার মাঝেও পরিবার থেকে তিনি মানসিক শক্তি পেয়েছেন জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “একদিকে যেমন বাধা ছিল, অন্যদিক থেকে সম্মতি, সহযোগিতা এবং সাহস জোগানোর বিষয়টাও ছিল।”
সূত্র:https://tinyurl.com/4xduyvcp
আফরোজা