
চুরির অভিযোগে দুই যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে প্রকাশ্যে ন্যাড়া করে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে 'চোর' লেখা প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে বাজার ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর বাজারে ঘটেছে।এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনৈক হাসান ফকিরের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের মায়ের দোয়া আইসক্রিম ফ্যাক্টরির কর্মচারী ছিলেন উপজেলার যবসেন গ্রামের ইনু পাইকের ছেলে লিমন পাইক। গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে ওই কারখানা থেকে কর্মচারী লিমন পাইক ৭০ হাজার টাকা চুরি করে ঢাকায় চলে যান বলে হাসান ফকির অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে লিমন পাইক ও তার বন্ধু ইমন মোল্লাকে খুঁজে ঈদের পরেরদিন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসেন হাসান ফকির। এরপর তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানানোর পর তারা অপরাধ করলে থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করার কথা বলেন।
কিন্তু হাসান ফকিরসহ স্থানীয় অতিউৎসাহী কতিপয় ব্যক্তি লিমন ও ইমনকে থানায় সোর্পদ না করে দুইজনকে বাজারের গোডাউন রোডের একটি কাপড়ের দোকানের সামনের বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে প্রকাশ্যে এলোমেলোভাবে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে মারধর করেন। এরপর গলায় 'চোর' লেখা প্লাকার্ড ঝুলিয়ে বাজার ঘুরিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে ইমন মোল্লার বাবা ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লা বলেন, "আমার ছেলে চুরি করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে থানায় ধরিয়ে দেন। তাকে এভাবে মাথার চুল কেটে শিকল দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা ঠিক হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা তাকে ফোন করে বিষয়টি সমাধান করার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। অন্যথায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মিথ্যে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। দাবীকৃত টাকা না দেয়ার কারণেই ইমন ও তার বন্ধু লিমনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে তাদের সম্মানহানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানহানীর মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।"
কারখানার মালিক হাসান ফকির বলেন, "ইমন ও লিমন যেন পালাতে না পারে, সেই জন্যই রাতে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।"
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আফরোজা