ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

এই ৮টি কৌশলে মিথ্যাবাদী ধরুন অনায়াসে!

প্রকাশিত: ০৭:১০, ৫ এপ্রিল ২০২৫

এই ৮টি কৌশলে মিথ্যাবাদী ধরুন অনায়াসে!

ভাবুন তো, যদি সবাই সব সময় সত্য বলত,দুনিয়াটা কতটাই না সহজ হতো!কিন্তু বাস্তবতা হলো, এমনটা খুব কমই ঘটে। আর তাই নতুন কাউকে চেনার সময় অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে একটু সচেতন থাকা জরুরি। সরাসরি কাউকে সন্দেহ না করেও আপনি খুব সূক্ষ্মভাবে বুঝে নিতে পারেন,কে সত্য বলছে, আর কে আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে।

চলুন, দেখে নিই এমন ৮টি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যা কাউকে কিছু না বুঝিয়ে আপনাকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ধরিয়ে দিতে পারে-

১. তারা কেমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করছে, খেয়াল করুন
প্রথম দেখাতেই সবাই একটু নার্ভাস থাকে,এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সে সুযোগে আপনি যদি শুধু নিজের কথাবার্তা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সংকেত মিস করে ফেলবেন। দেখুন, সে কি খুব স্বচ্ছভাবে কথা বলছে, নাকি নিজের কিছু অংশ আড়াল করছে।

২. চোখের দিকে তাকান,চোখ অনেক কিছু বলে দেয়
কেউ যদি আপনার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারে, বারবার দৃষ্টি এড়িয়ে যায় বা অস্বাভাবিকভাবে চোখের পলক ফেলে,তাহলে কিছু একটা গড়বড় আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যাবাদীরা চোখের দিকে তাকাতে অস্বস্তি বোধ করে।

৩. প্রশ্নের জবাবে যদি প্রশ্ন ফেরত আসে, বুঝে নিন কিছু একটা লুকোচ্ছে
আপনার প্রশ্ন শুনে যদি সে বলে, “মানে কী?” বা “আবার বলো তো?”তাহলে সে সম্ভবত নিজের উত্তর তৈরি করছে। একইভাবে, জড়তা, অতিরিক্ত ব্যাখ্যা, অনাকাঙ্ক্ষিত কথার ভিড়,সবই হতে পারে মিথ্যার সংকেত।

৪. শরীরের ভাষা বুঝুন,এটা কখনোই মিথ্যে বলে না
কথা এক জিনিস, কিন্তু শরীর তার নিজের মতো কথা বলে। কেউ যদি ঘন ঘন পোশাক ঠিক করে, চুলে হাত দেয়, মুখ আড়াল করে বা হাত বুকে গুটিয়ে রাখে,তাহলে ধরে নিতে পারেন, সে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে আছে বা কিছু লুকোচ্ছে।

৫. গল্পে গড়মিল? এবার প্রশ্ন তুলুন
কথা বলতে বলতে কেউ নিজের গল্পে বারবার তথ্য বদলে ফেলছে? একবার বলছে একরকম, পরে বলছে আরেকরকম? তাহলে সাবধান। মিথ্যার জাল বোনার সময় অনেকেই ভুল করে বসে।

সাবেক এফবিআই এজেন্ট জ্যাক শ্যাফার বলেছিলেন,
“মানুষের মুখ থেকে শব্দ এমনি এমনি পড়ে না। প্রতিটি শব্দই তার চিন্তার প্রতিফলন। আর এই শব্দই অনেক সময় মিথ্যা ফাঁস করে দেয়।”

৬. যদি মনে হয় আপনাকে দূরে রাখা হচ্ছে, তা হলে ভাবুন কেন?
সবাই যে সব বিষয়ে খোলামেলা হবে, এমন নয়। তবে কেউ যদি সাধারণ বিষয়েও (যেমন চাকরি, শখ, পরিবার) এড়িয়ে যায় বা অস্পষ্ট উত্তর দেয়, সেটা হতে পারে একটা ‘রেড ফ্ল্যাগ’। মিথ্যাবাদীরা সাধারণত কিছু বিষয় আড়াল করে চলে,যেন আপনি বেশি জানতে না পারেন।

৭. অতিরিক্ত প্রশংসা বা নিজের কথায় বাড়াবাড়ি
মনে রাখবেন, অতিরিক্ত সবই সন্দেহজনক।“আমি এটা করেছি, আমি ওটা পারি”,এরকম বাড়াবাড়ি ধরনের আত্মপ্রশংসা অনেক সময় সত্যের চেয়ে বেশি কিছু আড়াল করতে চায়। আবার, আপনাকে যদি কেউ হঠাৎ করে খুব প্রশংসা করতে শুরু করে, সেটা কি সত্যি আন্তরিক, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? ভাবুন।

৮. নিজের অন্তর্জ্ঞানকে ছোট করে দেখবেন না
মন মাঝে মাঝে কিছু আগেভাগেই ‘অনুভব’ করতে পারে। যদিও সব সময় ইন্সটিংক্ট ঠিক নাও হতে পারে, কিন্তু সেটা একেবারে ফেলনা নয়। আপনার ভেতরের সেই হালকা অস্বস্তির ইঙ্গিত অনেক সময় বড় সত্যের ইশারা দেয়।


সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সব সময় চোখে পড়ে না। কিন্তু যদি আপনি মনোযোগ দেন, পর্যবেক্ষণ করেন, আর একটু সচেতন থাকেন,তাহলে অনেক ‘না বলা কথা’ও আপনি বুঝে ফেলতে পারবেন।সবাইকে বিশ্বাস করুন, কিন্তু চোখ-কান খোলা রেখে।কারণ সব হাসি সত্যি হয় না।

 

সূত্র:https://tinyurl.com/3r6nuybd

আফরোজা

×