
ছবিঃ সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম স্যারের সাথে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে Empowering Our Fighters এর পক্ষ থেকে আমরা শহীদ ও আহত পরিবারের কিছু দাবি দাওয়া উপস্থাপন করি। স্যার ঈদের দিন থেকেই চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন শহীদ ও আহত পরিবারের সাথে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন।
স্যারের কাছে চট্টগ্রাম শহরের শহীদ পরিবারদের পরিস্থিতি তুলে ধরি, তখন তিনি শহরে উপস্থিত পরিবারগুলোর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে উপদেষ্টা ফারুক ই আজম স্যার কয়েকজন শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করেন ও তাদের ঈদ উপহার প্রদান করেন। শহীদ পরিবারের মধ্যে আছেন মো. ফারুক ভাই, শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত, শহীদ মো. আলম, শহীদ শহীদুল ইসলাম। Empowering our fighters এর পক্ষ থেকে আমরা স্যারের সাথে যাই এবং তার কাছে শহীদ পরিবারের দাবিদাওয়া তুলে ধরি। আমাদের পক্ষ উপস্থাপিত বিষয় সমূহ:-
১) শহীদ নূর মোস্তফার জুলাই শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। নূর মোস্তফার জন্ম কক্সবাজারের ঈদগাহতে। স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসাতে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। মোস্তফার বাবা-মার NID কার্ড নেই, তাই স্থানীয় ডাটাবেজে তার তথ্য আপডেট করা হচ্ছে না। নূর মোস্তফার স্বীকৃতির জন্য Empowering our Fighters এর পক্ষ থেকে স্যারের কাছে আজকে স্মারকলিপি প্রদান করি।
২) মন্ত্রণালয় কর্তৃক শহীদ পরিবারকে প্রদিত সঞ্চয়পত্রের ৫০% স্ত্রী-সন্তান ও ৫০% শশুর পরিবারের জন্য প্রদান করে হচ্ছে। স্যার বলেছেন এই টাকা পুরোটাই শহীদের বর্তমান স্ত্রী ও সন্তার পাবেন। ভাতার ক্ষেত্রেও একই।
৩) শহীদদের কবরগুলো চিহ্নিত করে স্বীকৃতি দেয়া। স্যার বলেছেন সরকারের পক্ষ থেকে কবরে স্মৃতিফলক লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকেও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমরা চাই, হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক। শহীদ ফারুকের স্ত্রী সীমা আক্তার জানান, যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তাদের বিচার হোক, কিন্তু কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়। জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল এক ফাঁকে দেখা করতে যাই আহত মেহেদী ভাই এর সাথে। ভাই ৫ আগস্ট পুলিশ লাইন্সের সামনে কোমরের নিচে গুলি লেগে আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তার প্রায় ৫টা অপারেশন হয়েছে। ঈদের পর আবার অপারেশন হবে। এর মধ্যে কয়েকবার চট্টগ্রাম মেডিকেল এরপর চট্টগ্রাম CMH এ ভর্তি ছিলেন। মেহেদী ভাই এর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
ইনশাআল্লাহ, খুব দ্রুতই নূর মোস্তফার শহীদি স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হবে।
রিফাত