ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বোয়ালমারীতে হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বোয়ালমারী, ফরিদপুর

প্রকাশিত: ২০:০১, ৩ এপ্রিল ২০২৫

বোয়ালমারীতে হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হাতকাটা শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের চিতারবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের চিতারবাজারে ত্রাস সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলদার হাতকাটা শাহিদুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাজারটির বণিক সমিতির লোকজন। এ ঘটনার ১৫ ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাট ও পেঁয়াজের বাণিজ্যিক হাট হিসেবে পরিচিত চিতারবাজারের প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসায়ী হাতকাটা শাহিদুলের কাছে অনেকদিন ধরে জিম্মি হয়ে চাঁদা দিয়ে আসছিল। তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পেতো না। উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এ বাজারটিতে হাতকাটা শাহিদুল সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে সরকারি চাঁন্দিঘর দখল করে হাঁস-মুরগির ফার্ম করার নামে মাদকসেবনের আখড়া বানিয়ে দেদারসে মাদক বেচাকেনা করে আসছিল। এছাড়া বাজারের ছোটবড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট প্রতিনিয়ত মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে, তাকে চাঁদা না দিলে রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলা চালায় শাহিদুল ও তার সহযোগীরা। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ও হামলায় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। সমাবেশে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, হাতকাটা শাহিদুলের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরাসহ সাধারণ মানুষ আতংকগ্রস্থ থাকতো সবসময়। তার অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। 

বুধবার বিকালে বাজারটির সকল দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। এসময় শাহিদুলের অত্যাচারের শিকার ভুক্তভোগী ও অতিষ্ঠ স্থানীয়রা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, চিতারবাজার বণিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোল্যা,উপজেলা কৃষকদলের সহ সাধারণ সম্পাদক রিজাউল হক, বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ মাজেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানজিম আহমেদ সোহেল সদস্য লুৎফর বিশ্বাস প্রমুখ। 

এ সময় বক্তারা বলেন, দাদপুর ইউনিয়নের মোবারকদিয়া গ্রামের মানিক শেখের ছেলে শাহিদুল ইসলাম শেখ ও তার সহযোগী একই ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের শাহজাহান কাজীর ছেলে বায়েতুল্লাহ চিতারবাজারসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তারা বাজারের বিভিন্ন দোকানে প্রতিনিয়ত চাঁদা দাবি করে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলা করার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, হাতকাটা শাহিদুল ইসলাম স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় বিগত সরকারের আমলে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাজারে চাঁন্দিঘর দখল করে সেখানে হাঁস-মুরগির খামারের আড়ালে মাদক কারবার করে আসছিলো সে। ২০১৮ সালে এক তুচ্ছ ঘটনায় জনৈক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ডান হাত কেটে ফেলে। সমাবেশ শেষে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সভাস্থল ত্যাগ করলে বিক্ষুব্ধ জনতা ১ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে সরকারি চান্দিঘর হাতকাটা শাহিদুলের কব্জা থেকে দখল মুক্ত করে। এসময় সেখান থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে ক্ষুব্ধ জনতা।

সমাবেশে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ শাহিদুল ইসলামসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানোর ১৪ ঘন্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।  বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশীয় অস্ত্র, ছুড়ি ও চাপাতি দ্বারা মৃত্যুর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অপরাধে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে তাকে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, "হাতকাটা শাহিদুলের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা একটি আইনশৃঙ্খলা সভা করে, সেখানে গিয়ে জানতে পারি সে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা তুলে আসছিলো। যা আগে তার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানায়নি। জানতে পেরে ১৫ ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"

আবীর

×