
ছবি: সংগৃহীত
অনন্যা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী অনন্যা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হতেই তাকে নিয়ে রটে ছিলো নানামুখী সমালোচনা। শত্রুতা করে তুলে নিয়ে গেছে অথবা সমাজপতিরা মজা লুটের ষড়যন্ত্রেও ছিল তৎপর। মেয়ের নিখোঁজ খবরে স্ট্রোক করেন পিতা তারা মিয়া। পরিবার মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন ।
অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের কাউলীবেড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী অনন্যা বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু একা নয়, প্রেমিক পুরুষ জুয়েল খানকে সাথে নিয়ে। অনন্যার ফিরে আশায় উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত পরিবার।
স্বজনেরা জানায়, জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী অনন্যা। মোবাইলের রং নাম্বার থেকে গত একটি বছর গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক জুয়েল খানের সাথে মন দেওয়া শুরু হয়।
প্রেম প্রণয়ের সূত্রতায় ২১ জানুয়ারী অনন্যা বাড়ির কাউকে না জানিয়ে বান্ধবী নুরুন্নাহারের ফোনের সহযোগিতায় ঢাকার টঙ্গীর বিসিক নগরীতে প্রেমিকের টানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। টঙ্গী পৌঁছে প্রেমিক জুয়েল খানকে টঙ্গী আসতে বললে সেখানে দ্রুত ছুটে আসে প্রেমিক।
অপ্রস্তুত অবস্থায় দুজনের দেখা হতেই ভাঙ্গার বাড়িতে অনন্যাকে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে জুয়েল খান। কিন্তু নাছোরবান্দা তার কথায় রাজি ছিল না অনন্যা। উল্টো গাড়ির তলে মাথা দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে প্রেমিকাকে বাধ্য হয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী গ্রামে নিয়ে আসে জুয়েল খান।
মেয়ের নিখোঁজ খবর মিডিয়ায় ও গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তেই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়। থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নিখোঁজ অনন্যার স্বজনরা। নিখোঁজ অনন্যার সন্ধানে নড়েচড়ে বসে সর্ব মহল। কোথাও খোঁজ মিলেনি প্রতিবন্ধী অনন্যার।
মেয়ে বেচে আছে না মরে গেছে ভাবনায় শোকে পাথর হয়ে ওঠে তারা মিয়ার পরিবার। অবশেষে দীর্ঘ তিনমাস পর কথিত প্রেমিক ও স্বামী জুয়েল খানের হাত ধরে বাড়িতে ফিরে আসায় স্বস্তিবোধ আনন্দ উল্লাসে ফেটে উঠেছে তারা মিয়ার পরিবারে।
প্রতিবন্ধী অনন্যা স্বামীকে নিয়ে গ্রামে ফিরে এসেছে খবর ছড়িয়ে পড়লে মিডিয়া কর্মী খবর সংগ্রহে এবং শত শত উৎসুক গ্রামবাসী তাদের দেখার জন্য ভীড় জমিয়ে তোলেন অনন্যার বাবার বাড়িতে।
মেহেদী হাসান