
ছবিঃ সংগৃহীত
বিমসটেক ইয়াং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সেখানে তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেন, কিভাবে মাত্র ১ ডলারের ঋণ একজন দরিদ্র নারীর জীবন বদলে দিয়েছিল এবং কেন প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা দরিদ্রদের সহায়তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ড. ইউনূস বলেন, "আমি এক দরিদ্র নারীকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি বাজারে কিছু উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারবে? সে বলল, ‘আমি চেষ্টা করতে পারি।’ তখন আমি তাকে ১ ডলার ঋণ দিলাম। আমি বললাম, ‘তুমি আমাকে টাকা ফেরত দেবে, তবে যখন পারবে। আমি কোনো চাপ দেব না।’ এবং এর ফলাফল আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল। যদি মাত্র ১ ডলার কারও জীবন বদলে দিতে পারে, তাহলে আমি কেন আরও বেশি করি না? আমি তখনো আমার পকেটে অনেক টাকা নিয়ে ঘুরছিলাম। আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছি, সেখানে আমি কয়েক বছর ধরে শিক্ষকতা করেছি।"
তিনি বলেন, "এভাবেই আমার যাত্রা শুরু হয়। ধাপে ধাপে আমি শুধু টাকা ধার দেওয়ার বিষয়েই ভাবিনি, বরং গভীরভাবে প্রশ্ন তুলেছি— যদি মাত্র ১ ডলার একটি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে এবং সে সেই টাকা ফেরত দিতে পারে, তাহলে আমরা আরও বেশি কেন করি না?"
তিনি আরও বলেন, "আমি তখন ক্যাম্পাসের ব্যাংকে গেলাম। সেটি ছিল নতুন একটি ব্যাংকিং অফিস। আমি ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললাম। তাকে বললাম, ‘তোমরা গরিব মানুষদের ঋণ দাও না কেন?’"
"সে অবাক হয়ে বলল, ‘ব্যাংক কখনো গরিব মানুষদের ঋণ দেয় না!’"
ড. ইউনূস বলেন, "আমি তখন বললাম, তোমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভুল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তোমাদের নীতি হলো— যার বেশি আছে, তাকে আরও বেশি দেওয়া হবে। যার কিছুই নেই, সে কিছুই পাবে না। কিন্তু আদতে হওয়া উচিত ছিল— যার কম আছে, তার প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। ব্যাংকের দায়িত্ব হওয়া উচিত মানুষের দ্বারে গিয়ে সেবা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। এ কারণেই কেবল একটি গ্রাম বা একটি দেশ নয়, বরং পুরো বিশ্ব এই ভুল নীতির কারণে সমস্যার মধ্যে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মানুষ কোনো সমস্যা নয়, বরং তারা সম্ভাবনার উৎস। তারা উদ্যমী, সৃষ্টিশীল চিন্তা করতে পারে। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভুলভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা তাদের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।"
বিমসটেক সম্মেলনে তার এই বক্তব্য তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।