
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রজনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অনুশোচনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, 'আপনারা আমার আইনি চিঠি দেখুন এবং সেখানে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে কি না। তারা অর্থাৎ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।'
গত ২ মার্চ ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ও লন্ডনের সাবেক এমপি টিউলিপ।
অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে টিউলিপের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি মামলা মোকাবেলায় তার আইনজীবীরা প্রস্তুত, তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য।
লন্ডনের হ্যামস্ট্রেড ও হাইগ্রেড আসনের এই এমপি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তখন বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির তদন্তে তার নাম উঠে আসে। পরে বিরোধীদের ব্যাপক চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। এসব বিষয়ে তিনি বলেন, 'মাসখানেক হয়ে গেল অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু বাংলাদেশের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এর আগে গত মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূস স্কাই নিউজকে বলেছিলেন, টিউলিপ সিদ্দিক দেশে সম্পদ রেখে গেছেন এবং তার এজন্য জবাবদিহি করা উচিত।'
এর আগে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাকে নিশানা করে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনে যে কয়টি বাড়িতে বসবাস করতেন, সেগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে, এ অভিযোগ ওঠার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মাননিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে এ অভিযোগ নিয়ে তদন্তের বিষয়েও যোগাযোগ করেন তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো
রাকিব