ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

জিও রোল দিয়ে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৮:০৯, ৩ এপ্রিল ২০২৫

জিও রোল দিয়ে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের ভাঙনকবলিত এলাকা চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইতোমধ্যে ভাঙ্গন এলাকার দূরে জিও রোল দিয়ে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মানের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় ১৫শ ফুট দীর্ঘ বিকল্প রিংবাঁধের নির্মান কাজ জিও রোল বসিয়ে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ভাঙ্গন এলাকার অর্ধেক অংশে জিও রোল বসানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার এই রিংবাঁধের কাজ শেষ হলে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। ভাঙ্গন এলাকার পরিস্থিতির ভয়াবহতায় দ্রুত বাঁধ নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করছেন বলে বৃহস্পতিবার বিকালে জানিয়েছেন এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস।

উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ সকাল ৯টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর বিছট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৬টি গ্রাম তলিয়ে যায়। এতে করে পানি বন্দি হয়ে পড়ে ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদীর পানিতে তলিয়ে যায় সহাস্রাধিক চিংড়ি মাছের ঘের ও বোরো ধানের ক্ষেতসহ ফসলি জমি। ডুবে গেছে গ্রামগুলোর নিম্মাঞ্চলের পুকুর। পানি উঠছে বসতবাড়িতে, ভেঙ্গে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাছের ঘেরে নদীর লবণ পানি ঢোকানোর জন্য বেড়িবাঁধ  ছিদ্র করে তলা দিয়ে পাইপ বসানোর কারণে বাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়েছিল। যে কারণে তলার মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, এখানকার ভাঙ্গন খুবই ভয়াবহ। দ্রুত মেরামত করতে না পারলে আরো বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়নবের্ডের দুটি বিভাগকে সমন্বয় করে একসাথে কাজ করতে বলা হয়েছে। আপাতত জিও রোল দিয়ে প্রটেকশন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে, বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে আনুলিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাঙ্গন এলাকায় বিকল্প রিংবাঁধ দেয়ার কাজ শুরু করা হলেও বিকাল পর্যন্ত অর্ধেক অংশের কাজ শেষ হয়েছে।

আবীর

×