ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বিজয় দিবস: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ২ এপ্রিল ২০২৫

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বিজয় দিবস: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি, বরং পাকিস্তানিদের কাছ থেকে ভারতীয় সেনারা দেশের দখল নেয়। তিনি দাবি করেন, সেই সময় ভারতের কেবিনেট থেকে দেশের ১৯টি মহকুমায় প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ করা হয়েছিল এবং থানাগুলোতে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল ভারতীয় সেনারা।

বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঈদ পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানীকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তাহলে কিভাবে সেটি বাংলাদেশের বিজয় দিবস হতে পারে? এটি আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বিজয় দিবস।”

তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশ প্রকৃত বিজয় অর্জন করে, যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে ভারতীয় সেনারা দেশ ছাড়ে। তিনি বলেন, “১৯ মার্চ এক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়। তাই বাহাত্তরের ১৯ কিংবা ৩০ মার্চই আমাদের বিজয় দিবস হওয়া উচিত ছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় সেনারা যাওয়ার সময় পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশের পাটকল, চিনিকল ও শিল্প-কারখানার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়। “কিন্তু আমরা আজও ১৬ ডিসেম্বর ভারতের চাপিয়ে দেওয়া বিজয় দিবস পালন করে যাচ্ছি, যা নিয়ে নতুন করে ভাবার এবং আলোচনা করার সময় এসেছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “গত ১৬ বছর তারা ভারতের এজেন্ট হিসেবে দেশ শাসন করেছে এবং বাংলাদেশকে ভারতের একটি কলোনিতে পরিণত করেছে। ভোটসহ মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করেছে। তাই ২০২৪ সালকে আমরা আরেকটি স্বাধীনতা সংগ্রামের বছর হিসেবে দেখছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে এখনো চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটপাট চলছে। শুধু রাজনৈতিক ব্যানার বদল হয়েছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা চাই রাজনীতিতে রেনেসাঁ বিপ্লব, যা হবে জনগণের কল্যাণের জন্য।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুর রহিম। আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্য সচিব জি.এম রাব্বি, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি আমানুল্লাহ খান নোমান, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন বাচ্চু, সম্পাদক আরিফ হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের সমন্বয়ক শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব প্রমুখ।

এম.কে.

×