
ছবি: সংগৃহীত।
প্রতিবছর ভারতের পেঁয়াজ নীতি বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন আমেরিকার আছে উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল, রাশিয়ার আছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, সৌদি আরবের আছে তেল, আর ইরানের আছে ড্রোন—তেমনি ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র যেন পেঁয়াজ! বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিলেই দিল্লি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়, শুল্ক বসায়, কিংবা নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে এবার মোদির সেই চাল উল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এবার ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দেশে কোনো সংকট দেখা দেয়নি, বরং ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে তেমন একটা টিকছে না।
সম্প্রতি ভারতের রাজস্ব বিভাগ পেঁয়াজ রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১লা এপ্রিল থেকে দেশটির রপ্তানিকারকেরা বিনা শুল্কে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন। এতদিন পেঁয়াজ রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক ছিল। এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ধরে রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল। ৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকলেও রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় কৃষকেরা সেই সুবিধা নিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে দেশটিতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং তারা আন্দোলনে নামেন। অবশেষে আন্দোলনের মুখে ও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ মার্চ থেকে ভারত আবার পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেয়।
তবে বাংলাদেশ আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজ নীতি আর তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবার বাংলাদেশ ভারতকে বুঝিয়ে দিয়েছে, পেঁয়াজকে মিসাইল বানিয়ে চাপ সৃষ্টি করার দিন শেষ!
নুসরাত