ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ইরান জুড়ে ভয়াবহ হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে এবার ইরানের পাশে দাঁড়াল রাশিয়া

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২০:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৫

ইরান জুড়ে ভয়াবহ হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে এবার ইরানের পাশে দাঁড়াল রাশিয়া

ছবি: প্রতীকী

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক হাত নিলেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। এর আগে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তেহরানের পাশে দাঁড়ায় মস্কো। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবার অধিকার আছে, এমন দাবি রাশিয়ার।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়তে ও নিরাপত্তা জোরদারে ইরানের নৌবাহিনীর সাথে সামরিক মহড়াও সেরে ফেলেছে চীন ও রাশিয়া। যার ফলে অঞ্চল জুড়ে মার্কিনি বলয়ের বিরুদ্ধে ইরানের সাথে একজোট রাশিয়া ও চীন।

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে না গেলে ইরান জুড়ে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসার পরই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিতে দেখা যায় ইরানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাহিনী আইআরজিসিকে। এমনকি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান নৌঘাঁটিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাহায্যে উড়িয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল রাশিয়া।

ইরানে বোমা হামলা চালানো প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত হুমকি ও আল্টিমেটাম দিয়েই যাচ্ছে। আমরা এ ধরনের পদক্ষেপগুলোকে অনুপযুক্ত বলে মনে করি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই। রাশিয়া এটিকে ইরানের উপর মার্কিনিদের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হিসেবেই বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই সমস্যা সমাধানে বিকল্প পথ বের করতে হবে। রাশিয়ার এই কূটনীতিকের বরাতে ১ এপ্রিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি।

এর আগে মার্চে ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের চাবাহার বন্দরে নৌমহড়ায় ইরানের সাথে অংশ নেয় রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনী। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ইরানকে সহায়তার আশ্বাস দেয় মস্কো ও বেইজিং। এই নৌমহড়ায় অংশ নেয় তিন দেশের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, প্রদর্শিত হয় শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার কৌশলগুলো। আর এতেই ঘাবড়ে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে গত ১৪ মার্চ ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে চীন। দেশটির রাজধানী বেইজিং এ ইরান ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা করে চীন। বৈঠক শেষে বেইজিং ও মস্কো জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবার অধিকার আছে ইরানের। এসময় ইরানের উপর জারি করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ হিসেবে আখ্যা দেয় চীন ও রাশিয়া।

 

সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=SP3aXT0OcZQ

রাকিব

×