ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

শেখ হাসিনা ছিলেন খুব প্রভাবশালী নেতা, তার চলে যাওয়ায় ক্ষমতায় একটি শূন্যতা তৈরী হয়: ইন্ডিয়া টুডেকে মাহফুজ আনাম

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৯:৪৮, ২ এপ্রিল ২০২৫

শেখ হাসিনা ছিলেন খুব প্রভাবশালী নেতা, তার চলে যাওয়ায় ক্ষমতায় একটি শূন্যতা তৈরী হয়: ইন্ডিয়া টুডেকে মাহফুজ আনাম

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টু’ডের এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক রাজ চেঙ্গাপ্পার উপস্থাপনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়, বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে। মাহফুজ আনাম ইন্ডিয়া টু’ডের  ‘নাথিং বাট ট্রু’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চলমান বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ চেঙ্গাপ্পা বলেন, গেল বছরের আগস্টে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা।

এরপর মাহফুজ আনামকে রাজ প্রশ্ন করেন, মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার সাত মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তাকে মনোনীত করা হয়েছিল এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে, তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তাসহ সব ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার আনবেন।আপনি এই বিষয়গুলোর ওপর ইউনূসের কর্মদক্ষতাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, শুরুতেই আমি তাকে (ড. ইউনূস) মিশ্র গ্রেড দেব। কিছু ক্ষেত্রে তিনি খুব ভালো করেছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম করেছেন। তবে এটাও বুঝতে হবে যে হাসিনা সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। তিনি ছিলেন খুব প্রভাবশালী নেতা, এবং তার চলে যাওয়ায় ক্ষমতায় একটি শূন্যতা তৈরি হয়। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, ইউনূস প্যারিসে ছিলেন, তিনি ৮ তারিখে দেশে ফিরেছিলেন এবং হাসিনা ৫ আগস্ট চলে যান দেশ ছেড়ে। মাঝের এই তিন দিন আমাদের দেশে কোনো সরকার ছিল না। এই তিন দিনই সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এবং আক্রমণের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি।

কিছু কারাগার থেকে বন্দিরা পালিয়েছিল, কিছু মৌলবাদী কারাগার থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তাই এই প্রথম কয়েক দিনে অনেক বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর ইউনূস শপথ নেন, তার প্রাথমিক দলের সদস্যরা বেশ অগোছালোভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি জানি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেককেই চিনতেন না। তাই প্রশ্ন উঠতে পারে, কিভাবে তিনি তাদের মন্ত্রিসভায় নিয়েছিলেন, যাদের তিনি ভালোভাবে জানতেন না। তাই অনেক অস্বস্তি ছিল। বলতে পারেন মিশ্র একটি উপদেষ্টা পরিষদ, যারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করেননি এবং তাদের অনেকেরই সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না।

সুতরাং, এসব কারণে শুরুতে বলা যায়, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ভুল দিকনির্দেশনা এবং কিছু নীতির অভাব ছিল। এখন সাত মাস পর অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে পরিস্থিতি। এ ছাড়া শুরুতে মূল্যস্ফীতি বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল, যা এখন স্থিতিশীল। আমরা গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমতে দেখেছি এবং আমাদের রপ্তানি এখন আগের স্তরে ফিরে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর আমাদের রপ্তানি ছিল ১৯.৯ বিলিয়ন (ডলার)। আর এখন এই বছরে একই স্তরে আছে। তাই ডলারের বিপরীতে টাকা স্থিতিশীল হয়েছে। আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে। অর্থনৈতিক পতনের অনুভূতিটাও কেটেছে।বলতে পারেন, আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি।

ফুয়াদ

×