
ছবি: সংগৃহীত
মানসিক ভারসাম্যহীন ২০ বছর বয়সী যুবগ ইমরান। তার ২০ বছরের এই জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে পায়ে শিকল আর তালাবন্ধ বন্দি অবস্থায়।
পায়রা নদীর তীরে জরাজীর্ণ ঘরের পাশে খোলা আকাশের নিচে আম গাছের সাথে কাঠের একটি মাচার উপর ও রাতে ঘরের খাটের সাথে শিকলে তালা দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়। এভাবেই চলে তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু। আর এই ভারসাম্যহীন ইমরানের দেখাশুনা করেন তার অসহায় মা।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী রামপুর গ্রামের মৃত ইসহাগ জিহাদীর ছেলে ইমরান। পিতা ইসহাগ জিহাদী গত তিন বছর আগে মির্জাগঞ্জ মাজারের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়কালে মৃত্যু বরণ করেন।
ইমরানের বাবার মৃত্যুর পরেই বিধবা মা শাহিনুর বেগমের জীবনে নেমে আসে আরও দুর্দশা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মা শাহিনুর বেগম। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমরান সকলের ছোট। ভারসাম্যহীন ইমরানকে সুস্থ রাখতে হলে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকার ঔষধ খাওয়াতে হয়।
পিতার মৃত্যুর পরে ইমরানের চিকিৎসা এখন বন্ধ রয়েছে। তাই তার পাগলামিও বেড়েছে অনেক। আর এ কারণেই দুই পায়ে আর এক হাতে শিকল যেন তার সবসময়ের সঙ্গী। মানসিক ভারসাম্যহীন ইমরানকে এক মুহূর্তের জন্যও শিকল খুলে দিলে সে পালিয়ে যায়। তখন তাকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই নিরুপায় হয়ে তার মা ইমরানকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন।
সন্তান যেমনই হোক মায়ের কাছে সে অমূল্য ধন। মা কখনো সন্তানকে ফেলে দিতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিধবা মা শাহিনুর বেগম। সন্তান হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে এভাবেই ১৬ বছর ধরে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার আদরের সন্তানকে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে ইমরানের চলছে বন্দি জীবন।
ইমরানকে গোসল করাতে প্রতিদিন পায়রা নদীতে নিয়ে গেলে সেখানেও তাকে শিকল পরিয়ে নিতে হয়। পায়রা নদীর তীরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে অসহায় এই পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন। তাই সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ইমরানের অসহায় মা শাহিনুর বেগম।
রাকিব