
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার খালিয়াজুরি ও কেন্দুয়া উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট (বড়হাটি) ও কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমুল-ছবিলা গ্রামে এসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরীর গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট (বড়হাটি) গ্রামের একটি রাস্তায় কাজ করাকে কেন্দ্র করে আলী জাহান ও শরীফ এবং পারভেজের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দুই পক্ষের কয়েকশ লোক বল্লম, টেঁটা, ঢাল প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামের খোলামাঠে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে সালাম ও মোস্তাকিমসহ দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৩৮ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "রাস্তায় কাজ করাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু লোক আহত হয়েছেন। এখনও মামলা হয়নি।"
এদিকে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমুল (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের তাহাজ্জত মিয়া ও ছবিলা গ্রামের এজহারুল মিয়ার মধ্যে ঈদের দিন বিকেলে তুচ্ছ কারণে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে বুধবার দুপুরে দুই গ্রামবাসী মাইকিং করে জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আকাশ মিয়াকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া মুসলিম উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, সাইদুর রহমান ও সফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ৬টি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।"
আবীর