
ধীরে ধীরে মুক্ত হচ্ছে হাসিনা সরকারের আমলে জিম্মি হয়ে পড়া বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। একই সঙ্গে চলছে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করার কার্যক্রম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গেল ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৭৩ কোটি টাকা, যা মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। বাড়তে থাকা এই খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প দেখছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন,"দুর্বৃত্তায়ন করার যে যে বোর্ডগুলো আছে, সে ভেঙে দিয়েছি। আমরা শক্তিশালী গভর্নেন্স চাই। আমি মনে করি, যদি গভর্নেন্স ব্যাংকের ভালো হয়, বিনিয়োগগুলো যদি ভালো হয়, তাহলে ওই ব্যাংকগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য।"
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। তবে গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দিয়ে আইন মেনে একীভূত করা হবে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন,"আমরা নতুন ব্যাংকিং রেজলিউশন অ্যাক্ট করেছি। সেটার আওতায় যদি কোনো ব্যাংক কার্যকরভাবে পরিচালিত না হতে পারে, তাহলে আমরা হয়তো সেগুলোকে একীভূত করে ফেলবো। বন্ধ হওয়ার কিছু নেই। সবকিছু ঠিক থাকবে, তবে কিছু ব্যাংক একসাথে হতে পারে।"
এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক খাতে আধিপত্য বিস্তার করা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ব্যাংক খাতের কোনো তথ্যই গোপন রাখা হবে না।
তিনি বলেন,"কিভাবে টাকাটা বিদেশে গেল, সেটার বিভিন্ন ট্রেস বের করা হয়েছে। প্রত্যেকটা অর্থ সরাসরি নিজের নামে নেওয়া হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে বেনামিতে নেওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো ট্রেস করেছি। এখন বিদেশে কী কী সম্পদ রয়েছে, তার ট্রেসিং চলছে এবং পরবর্তীতে আমরা তা উদ্ধারের চেষ্টা করবো।"
পরিচালনা পর্ষদে স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে গভর্নর বলেন,"যদি কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বজনপ্রীতি দেখা দেয়, তবে সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন,"পরিবারগতভাবে যদি হয়, তারা যদি ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ না হয়, তাহলে তাদেরকে বোর্ডে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"
আফরোজা