
ছবি : সংগৃহীত
১৯ জুলাই ২০২৪। সূর্যাস্তের লাল আভায় যখন সারাদেশ উত্তাল, ঠিক তখনই মিরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান আকরাম খান রাব্বি। এরপর আগস্টের অন্ধকারে ডেমরার মিরাজ, তানহাদের মতো তরুণরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দেয়। এবারের ঈদে তাদের পরিবারগুলোতে নেই নতুন জামার উৎসব, নেই ঈদগাহে যাওয়ার প্রস্তুতি—কেবলই ফাঁকা ঘরে মায়ের চোখে অপেক্ষা: "আমার সন্তান কি আর ফিরবে?"
মিরাজের বাবা আব্দুর রব টেবিলের কোণায় পড়ে থাকা ছেলের চশমাটি দেখে অঝোরে কাঁদেন। সেই হাতেই ধরতেন বাবার আঙুল, ঈদের নামাজে যেতেন একসঙ্গে। আজ তা শুধুই স্মৃতি। তানহার মা-বাবা প্রতিটি ঈদে মেয়ের জন্য নতুন জামা কিনতেন, কিন্তু এবার তানহা "চাঁদ হয়ে" চলে গেছে দূর আকাশে। রাব্বির মায়ের ধূসর চোখে ঈদের চাঁদ যেন মৃত্যুর প্রতীক। "এটা মৃত্যু যন্ত্রণা, এটা ঈদ হইতে পারে না,"—বুক ফাটে তাঁর কণ্ঠে।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে এখনো অনেক আহত যোদ্ধা সুস্থ হওয়ার প্রতীক্ষায়। তাদের একজন শফিকুল (ছদ্মনাম) গত ঈদে পরিবারকে নতুন পোশাক দিতে পেরেছিলেন, কিন্তু এবার তাঁর পা ভাঙা। "মসজিদে যাওয়া তো দূরের কথা, পাল্টা পুঁতে পড়ে পানি পড়াই এখন অসম্ভব," বলছিলেন তিনি।
রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট পেরিয়ে স্বজনহারারা আজ শুধু একটি ঈদ চান: যেখানে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে উৎসব হবে সবার, "গণমানুষের"। মিরাজের বাবার কথায়: "আমাদের পরিবার অন্ধকারে ঢেকে গেছে... আমাদের ঈদই মরে গেছে।" কিন্তু এই শোকই যেন নতুন সংগ্রামের ইন্ধন—স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে যে বাংলাদেশে ফিরবে না আর কোনো মায়ের "বুকের মানিক" হারানোর আর্তনাদ।
সূত্র:https://youtu.be/zc7_YfoP6t8?si=iP0sOQ0ex8e2Hhlw
আঁখি