
ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।রবিবার ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা এবার ঈদ উদযাপন করতে পারলেন না। একদিকে তীব্র খাদ্যসংকট, অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলার অবসানের কোনো লক্ষণ নেই। রমজান শেষে যে ঈদ আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে, সেখানে গাজার মানুষ লড়ছে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মসজিদগুলোর বাইরে অনেকেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
ঈদ—যে দিনটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার, উৎসবের খাবার ভাগাভাগি করার এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক কেনার দিন, গাজার ২০ লাখ ফিলিস্তিনির কাছে সেটি শুধুই বেঁচে থাকার লড়াইয়ের আরেকটি দিন।
“এটি দুঃখের ঈদ,” বললেন দেইর আল-বালাহ শহরে খোলা মাঠে নামাজ আদায় করা আদেল আল-শায়ের। “আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছি, আমাদের সন্তানদের, আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ হারিয়েছি। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের, স্কুলগুলোকে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে হারিয়েছি। আমরা সবকিছু হারিয়েছি।”
তার পরিবারের ২০ জন সদস্য ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র কয়েক দিন আগে নিহত হয়েছে তার চার ভাগনে। কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল হঠাৎ করেই দুই মাস ধরে চলা নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। তারপর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, চার সপ্তাহ ধরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি কোনো খাদ্য, জ্বালানি বা মানবিক সহায়তা।
আরব মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার হামাস জানিয়েছে, তারা মিশর ও কাতারের একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তবে এর বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিজেদের একটি প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের গণহত্যায় এখন পর্যন্ত ৫০,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আফরোজা