
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বুধবার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দেশে গণহত্যার বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, "গণহত্যার বিচার দীর্ঘস্থায়ী করলে আওয়ামী লীগের বিচার হবে না।" তিনি প্রধান উপদেষ্টা থেকে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান।
রাশেদ খান আরও বলেন, "এখন এই মুহূর্তে আমাদের দরকার রাষ্ট্র সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্য সংহতি। আমাদের ভিতরে একতা বিনষ্ট হয়েছে। যারা বলছেন রাষ্ট্র সংস্কার গণহত্যার বিচারের আগে কোনোভাবে ইলেকশন হবে না, তাদেরকে বলব ভাই, ইন্ডিয়া যান। গিয়ে শেখ হাসিনাকে ধরে ফিরিয়ে আনেন। আমরা হাসিনাকে আগামী এক মাসের ভিতরে ফাঁসি দিতে চাই, আমাদের কথা ক্লিয়ার। গণহত্যার বিচার নিয়ে তালবাহানা চলবে না।"
তিনি আরো বলেন, "গণহত্যার বিচার যদি দীর্ঘমেয়াদী করেন তাহলে কিন্তু এদেশে আওয়ামী লীগের বিচার হবে না। সুতরাং অবশ্যই আগামী ছয় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের যারা অপরাধী, এদের রায় দিতে হবে এবং রায়ের পরে দুই এক মাসের ভিতরে তাদের ফাঁসি দিয়ে গণহত্যার বিচারটা শেষ করতে হবে।"
রাশেদ খান এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা সম্পর্কে বলেন, "তবে সবার আগে এই মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টাকে বলব যে, আমি তো বলেছিলাম, আমি আমার জায়গা থেকে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়েছি যে চীন সফরের আগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব। আপনি সকল রাজনৈতিক দল যারা গণভব্য তাদের ভূমিকা রেখেছে, তাদেরকে আপনি ডাকেন, ডেকে মতামত নেন যে তারা আসলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ চায় কিনা।"
তিনি আরও বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা কি করলেন? তিনি চীনে গেলেন। ঠিক আছে। আমি এখন বলতে চাই, চীন থেকে ফিরেই আপনি একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান করবেন। সেই জাতীয় সংলাপে আপনি সকল দল এবং যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে তাদের মতামত নিবেন, স্বাক্ষর নিবেন। আমরা দেখতে চাই কারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়, কারা রাষ্ট্র সংস্কার চায় না, কারা গণহত্যার বিচার চায় না।"
রাশেদ খান বলেন, "আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকশন হতে হবে এবং ডিসেম্বরের আগেই প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, গণহত্যার বিচার, আওয়ামী লীগের যারা গণহত্যার সাথে জড়িত, এদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।"
"ডিসেম্বরের বাইরে গিয়ে আপনি গণহত্যার বিচার করবেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবেন, রাষ্ট্র সংস্কার করবেন, আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব? আপনার গত সাড়ে সাত মাস আপনি কি করেছেন? কতটুকু রাষ্ট্র সংস্কার করেছেন? প্রধান উপদেষ্টা বিবিসি সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন যে রাষ্ট্র সংস্কার তো শুরুই করি নাই। আপনি আর কত সময় চান, আমাদের বলেন?"
সূত্র:https://tinyurl.com/ynfeapbw
আফরোজা