
তাজুল ইসলাম
আয়নাঘর সংস্কৃতি, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা, র্যাব-পুলিশের গণহত্যায় জড়ানো, বিচার কার্যে মার্কিন রাইট টু ফ্রিডমের সহযোগিতা, ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকাসহ নানান বিষয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক খালিদ ইবনে আমিন।
জনকণ্ঠ : যুদ্ধাপরাধী বিচারের মামলায় বিবাদীপক্ষের আইনজীবী থেকে চিফ প্রসিকিউটর, ঝুঁকি জেনেও কেন চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নিলেন ? এই বিপদশঙ্কুল যাত্রা কেমন যাচ্ছে ?
তাজুল ইসলাম : ঝুঁকি পেশার ক্ষেত্রে থাকতেই পারে। আমরা যেটা করছি, এটা একটা লিগ্যাল প্রফেশন (আইনি পেশা)। যখন আমরা ডিফেন্সে কাজ করেছি, তখন মনে হয়েছে সেই ক্লায়েন্টদের প্রতি আমার জাস্টিস করা উচিত। আমার কাছে মনে হয়েছে, এ লোকগুলো অন্যায়ভাবে ভিকটিমাইজ হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করছি, এটা তো রাষ্ট্রীয় কাজ, এটা একটা বড় কাজ।
দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এ সময়ে যে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি অন্ধকার সময় পার করে এসেছি। সেই বাংলাদেশে পেছনে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুবই কম। সে কারণেই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাকে যখন এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আমি এটা গ্রহণ করি।
আমি মনেকরি, দেশ ও জাতির কাছে এটা আমার কমিটমেন্ট। এজন্যই আমি এই দায়িত্বটা নিয়েছি। আমি এটা এনজয় করছি। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো ঝুঁকি আসে, তাহলে ঝুঁকি মোকাবিলা করব। এগুলোকে আমি কোনো বড় বিষয় মনে করি না, কারণ আমি আমার পেশার প্রতি, আইনের প্রতি, বিবেকের প্রতি সৎ আছি।
জনকণ্ঠ : কার নির্দেশ, কখন আয়নাঘর তৈরি হয় ? কুশীলবদের কি চিহ্নিত করা গেছে ? নির্যাতন সেল প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটুকু ?
তাজুল ইসলাম : আয়নাঘর সুনির্দিষ্ট একটা জায়গা নয়। পুরো বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে আয়নাঘর গঠন করা হয়েছিল। যারা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের বা যারা সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, সেটা যেভাবেই হোক, সরকার যাদের হুমকি মনে করেছে, সমস্ত আইন মানবাধিকারকে লঙ্ঘন করে তাদের ধরে গোপন কারাগারে বন্দি রেখেছে।
জনকণ্ঠ : শুধু ক্যান্টনমেন্টে আয়নাঘর ছিল নাকি অন্যান্য বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নির্যাতন সেল ছিল ? জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে ?
তাজুল ইসলাম : আয়নাঘর পুলিশের ছিল, ডিবির ছিল, সিটিটিসির ছিল, ডিজিএফআইয়ের ছিল। এভাবে তাদের নিজস্ব যে স্টেশনগুলো আছে, সেখানে এই গোপন বন্দিশালা পাওয়া গেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিজিএফআইয়ের বন্দিশালা, সেটাকে তারা আয়নাঘর নাম দিয়েছিল। আর বাকি অভ্যন্তরীণ যেগুলো ছিল, সেগুলোকে তারা বিভিন্ন কোড নামে ব্যবহার করত।
এভাবে আয়নাঘরের সং¯ৃ‹তি তৈরি হয়েছে। এটার সঙ্গে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত ছিল। ধরেন কাউকে র্যাব ধরে নিয়ে গেছে, সেখান থেকে পুলিশে, আবার পুলিশ থেকে ডিবিতে, আবার ডিবি থেকে ডিজিএফআইয়ের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাহলে এটা পুরো একটা রাষ্ট্রের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল। এ নির্দেশ এসেছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর আদেশে গোয়েন্দা সংস্থা এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করত। সুতরাং এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। পুরো কাজটা ছিল সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে। এটা ছিল দেশজুড়ে। সেজন্য আয়নাঘরগুলো এভাবে তৈরি হয়েছিল।
জনকণ্ঠ : প্রসিকিউটর টিমের আয়নাঘর পরিদর্শনে ছয় মাস সময় লাগল কেন ? কারা বাধা দিয়েছে ?
তাজুল ইসলাম : পরিদর্শনে দেরি হওয়ার অনেকগুলো কারণ ছিল। প্রথমত হচ্ছে, গুমের মামলাগুলো আমাদের কাছে এসেছে দেরিতে এবং এগুলোর তদন্ত শুরু করেছি দেরিতে। কারণ আমাদের কাছে অগ্রাধিকার ছিল জুলাই এবং আগস্টে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ। সে কারণে আমরা পরে শুরু করেছি, তারপরে যেটা হচ্ছে যে পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে আমরা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে বাধা পাইনি, যেটা গুম কমিশন পেয়েছে।
কিন্তু যেটা সমস্যা হয়েছে, এই আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালায় টর্চারের মেকানিজম ছিল সেগুলো কিন্তু আলামত নষ্ট করার জন্য এগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। রুমগুলোর স্ট্রাকচার চেঞ্জ করা হয়েছে, রুমগুলো ছোট করা হয়েছে, এই কাজগুলো করে আলামতগুলো মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলো আমরা ফেস করেছি।
জনকণ্ঠ : যে কোড নামগুলোর কথা বলছিলেন, সেখানে কী কী কোড নাম পেয়েছেন ?
তাজুল ইসলাম : এই মুহূর্তে এগুলো আমরা মিডিয়ার কাছে বলছি না, এগুলো আমরা তদন্তের স্বার্থে বলছি না।
জনকণ্ঠ : আয়নাঘরে সিভিলিয়ান সম্পৃক্ততা কেমন ? যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের কি শনাক্ত করা গেছে ? আসামিদের কতজন পলাতক ? আয়নাঘরের সংস্কৃতি আর বাংলাদেশে হবে না এর জন্য আপনারা কী করবেন ?
তাজুল ইসলাম : সিভিলিয়ানদের সম্পৃক্ততা বলতে আমরা যেটুকু পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততা এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততা। এখন পর্যন্ত আর বাকি বিষয়টা তদন্তাধীন, এখানে আর কোনো সিভিলিয়ানের সম্পৃক্ততা আছে কি না সেটা পরে দেখা যাবে। মূলত এটা হয়েছে বাহিনীগুলোর মাধ্যমে। এর বাইরে এমপিদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং লোকাল আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা ছিল, এগুলো ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসবে।
জনকণ্ঠ : বিদেশে পলাতক গণহত্যায় জড়িত খুনি হাসিনার ল্যাসপেন্সারদের তালিকা করে, জাতিসংঘের সাহায্যে বিচারের মুখোমুখি করা যায় ?
তাজুল ইসলাম : না, জাতিসংঘ কেন ? দেশের একটা আইন আছে, আমাদের দেশের একটা আদালত ব্যবস্থা আছে। যে কোনো অপরাধই হোক, বাংলাদেশে বিচার করতে সক্ষম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ গুম, খুন ও গণহত্যার মতো অপরাধের বিচার করতে পারবে।
জনকণ্ঠ : জাতিসংঘ এ ব্যাপারে, কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে ?
তাজুল ইসলাম : জাতিসংঘ একটা ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে যে, তারা জুলাই আগস্টে সংঘঠিত গণহত্যার ব্যাপারে একটা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। যেটা আমাদের বিচার কাজে সাহায্য করছে। এর বাইরে আমাদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগতভাবে সহযোগিতা, আমাদের ইনভেস্টিগেটর প্রসিকিউটরদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে সহযোগিতা করছে।
জনকণ্ঠ : রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ধরতে ট্রাইব্যুনাল কী ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে ?
তাজুল ইসলাম : রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত বিষয় না। যারা ট্রাইব্যুনালের কাছে অপরাধী, তাদের ধরতে ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছি। প্রথমে আমরা শেখ হাসিনাকে চেয়েছি। যারা বিদেশে পলাতক আছে বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ব্যাপারেও ক্রমান্বয়ে ইন্টারপোলের কাছে আমরা এগুলো পাঠাচ্ছি। যাতে তাদের গ্রেপ্তার করে এই আদালতের আওতায় আনা যায়।
জনকণ্ঠ : বন্দি সেলে মানসিক টর্চার, হাত বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দিয়ে, বীভৎস ছবি ঝুলিয়ে মানসিক চাপে রেখে কতজনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ?
তাজুল ইসলাম : এই পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। এগুলো পেতে সময় লাগবে। কিন্তু এ ধরনের টর্চার যে করা হয়েছে, সেগুলোর প্রমাণ পাচ্ছি। গুম কমিশনও পেয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা পেয়েছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরই সংখ্যা বলা যাবে।
জনকণ্ঠ : আয়নাঘরে যারা অসুস্থ ছিল, তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শনাক্ত করা হয়েছে?
তাজুল ইসলাম : সেগুলো তদন্তাধীন, আমরা বের করার চেষ্টা করছি।
জনকণ্ঠ : আয়নাঘরে কতজন বিদেশী সাংবাদিক গেছেন ? তাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?
তাজুল ইসলাম : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আল জাজিরা গিয়েছিল। এরপরে বিবিসি ও স্কাই নিউজ গেছে।
জনকণ্ঠ : শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের কোনো আশ্বাস পাওয়া গেছে ?
তাজুল ইসলাম : তাদের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তারা চাইলে কার্যকর করবেন অথবা করবেন না। আমরা যেটা পাঠিয়েছি তারা সেটা পর্যালোচনা করে দেখবেন। সুতরাং, আশ্বাস দেওয়ার কোনো কথা না, আইনত তারা এটা করতে বাধ্য।
জনকণ্ঠ : ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে কি দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
তাজুল ইসলাম : হ্যাঁ, ভারতের সঙ্গে এই এক্সট্রাডিসন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। ভারত সরকার এটা পেয়েছেন, কিন্তু তারা কোনো জবাব দেননি। সুতরাং কি করবে সেটা তাদের বিষয়।
জনকণ্ঠ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য সম্পন্নের জন্য কী পরিমাণ জনবল কাঠামো প্রয়োজন ? বেঞ্চ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে ?
তাজুল ইসলাম : আইন অনুযায়ী জনবল কাঠামো আছে। বেঞ্চ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এটা সরকার বিবেচনা করছে। হয়ত বা আমরা সেকেন্ড ট্রাইব্যুনাল দেখতে পারি।
জনকণ্ঠ : মার্কিন ‘রাইট টু ফ্রিডম’ জুলাই গণহত্যা ও গুম খুনের শিকার পরিবারগুলো যেন ন্যায়বিচার পায়, তার জন্য সাহায্য করবে ? সাহায্যের ধরন কেমন হতে পারে ?
তাজুল ইসলাম : তারা বলেছেন, টেকনোলজিক্যাল সাপোর্ট লাগলে, চেষ্টা করবেন সাপোর্ট দিতে। তারা মেইনলি চেষ্টা করেছেন যে, জনমত সৃষ্টিতে এবং তাদের যে প্রতিনিধি এখানে আছেন, তারা চেষ্টা করবেন যাতে কেউ সংঘঠিত প্রোপাগা-া চালিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সেই ব্যাপারে সাহায্য করবেন। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার তারা দেখতে চান। সে কারণে এই বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে তারা আছেন। এজন্য যত ধরনের সাহায্য দেওয়া সম্ভব, তারা করবেন।
জনকণ্ঠ : জুলাই-আগস্টের গণহত্যা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জনমত ও গণশুনানির আয়োজন করেছিলেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে ?
তাজুল ইসলাম : ছাত্রদের কাছে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, এত বেশি সংখ্যক ভিকটিম আছে যে, আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছি। কাছ থেকে বক্তব্য সংগ্রহ করে সাক্ষী নেওয়া, সংরক্ষিত আলামতগুলো নেওয়া। হাজার হাজার মানুষ সবাই ট্রাইব্যুনালের কাছে আসবে না নিজের তাগিদে। আবার তদন্ত সংস্থারও তাদের খুঁজে বের করা কঠিন। বিপুলসংখ্যক ছাত্র এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা গেছি।
মামলার প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কাজকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা গেছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে।
জনকণ্ঠ : আহত ও শহীদ পরিবারদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে কী উদ্যোগ থাকবে ?
তাজুল ইসলাম : বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা করবে। যারাই সাক্ষী হবে, তাদের আনা এবং তাদের পৌঁছে দেওয়া, নিরাপত্তা দেওয়া এটা আইনে আছে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, রাষ্ট্র তখন এটার নিশ্চয়তা দেবে।
জনকণ্ঠ : র্যাবের বর্তমান ডিজি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, বিগত সময়ে র্যাব গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সঙ্গে জড়িত ছিল। অথচ আট মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করেনি র্যাব। গণহত্যায় জড়িত র্যাব-পুলিশের অতি উৎসাহী রাঘব-বোয়ালদের শাস্তির আওতায় আনতে ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ কী ?
তাজুল ইসলাম : র্যাবের ডিজি যেটা বলেছেন, সেটার প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ যে তদন্ত হওয়া উচিত, তারা সেটা করবেন বলে বিশ্বাস করি।
জনকণ্ঠ : ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়নে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন ?
তাজুল ইসলাম : আমাদের কাজ মূল্যায়ন করা নয়। আমরা যেটা করব, কোনো গণমাধ্যম এই মানবতাবিরোধী অপরাধকে সংঘঠিত করার ব্যাপারে সাহায্য করেছে কিনা। উস্কানি দিয়েছে কিনা বা এটাকে ফ্যাসিলিটেড করার চেষ্টা করেছে কিনা। সেটা গণমাধ্যম হোক, ডাক্তার হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, মন্ত্রী হোক। কোনো না কোনো ফর্মে যদি সম্পৃক্ততা থাকে, আমরা তাদেরকে এই আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অনেক লোকজন বা অনেক গণমাধ্যম এই ফ্যাসিবাদকে এই গণহত্যাকে সংঘঠিত করার ব্যাপারে উস্কানি দেওয়ার ব্যাপারে ইনসাইড করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেছে। তারা নিশ্চয়ই আমাদের বিচারের ও তদন্তের আওতায় আসবেন।
জনকণ্ঠ : শত ব্যস্ততার মাঝেও জনকণ্ঠকে সময় দিয়েছেন, এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তাজুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।