ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৫ চৈত্র ১৪৩১

স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি

বৈষম্যহীন নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:১৭, ২৬ মার্চ ২০২৫

বৈষম্যহীন নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন

জাতি রাষ্ট্রের জন্মের  দিনে বর্ণিল আয়োজনে উদ্যাপন করেছে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি, যে দেশের মানুষের সামনে এখন সোনালি ভবিষ্যৎ। দেশের জন্মদিনে এক অন্যরকম স্বস্তি, আনন্দ ও শপথে জেগে উঠেছিল বাঙালি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার ৫৪ বছর পূর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক দিনে বুধবার স্বাধীনতার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ। 
দেশের পথে-প্রান্তরে পতপত করে উড়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা। আর এ পতাকা জানান দিয়েছে একটি স্বাধীন দেশের জন্মদিনের কথা। যে দেশটি অর্জনে ত্রিশ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব জাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। 
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত¯œাত লাল-সবুজের পতাকা হাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে-বৈষম্য, শোষণ, দুর্নীতি ও হানাহানিমুক্ত শান্তিময় নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা। কালরাতের আঁধার পেরিয়ে আত্মপরিচয় অর্জন ও পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিনটি বাঙালি জাতি হৃদয়ের গভীরতা থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই পালন করেছে নানা অনুষ্ঠানমালায়। স্বাধীনতা দিবসে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। 
দিনটি উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। ভোর থেকেই দলে দলে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ বেদি। এ সময় অনেককে লাল-সবুজের পোশাক পরে আসতে দেখা গেছে।  
রাস্তায় বের হওয়া শিশু-কিশোর ও তরুণদের হাতে শ্রদ্ধার ফুল, কারও গালে কিংবা কপালে আঁকা ছিল রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শার্ট পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েদের পরনে লাল-সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি। সবাই অংশ নিয়েছিলেন এবারের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনন্দ-উৎসবে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠে তরুণ প্রজন্ম শুনেছে তাঁদের বীরত্বগাথা ইতিহাস, জেনেছে একাত্তরের গণহত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রমহরণ ও বুদ্ধিবীজী হত্যার কালো ইতিহাস। 
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ঢাকা পুরানো বিমান বন্দর (তেজগাঁও) এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৬টি গান ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করে। 
সাভার থেকে আমাদের প্রতিনিধি অঙ্গন সাহা জানান, এদিন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদি। শ্রদ্ধায় অবনত জাতি এদিন আবারও স্মরণ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর রং-বেরঙের ফুল, হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। তবে এ বছর রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে অন্যান্য বছরের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম।
বাঙালি জাতির গৌরব ও অহংকারের এই দিনে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে সকাল ছয়টার দিকে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। সেইসঙ্গে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁরা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। 
প্রধান উপদেষ্টা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে লাখো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শ্রদ্ধা জানান বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা জানান উপদেষ্টামণ্ডলী ও বিদেশী কূটনীতিকরাও। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী নারী-পুরুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা। 
শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে যে সকল সংগঠন ॥ বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দুর্নীতি দমন কমিশন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও এর হলসমূহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ও এর হলসমূহ, গণ বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশ, ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়, বিশ^ সাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলা একাডেমি, ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক), সাস, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র, এডাব, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, সাব-এডিটরস কাউন্সিল, আশুলিয়া প্রেস ক্লাব, সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিকেএসপি, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই), পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ  পরমাণু শক্তি কমিশন, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি), বঙ্গবন্ধু কৃষি পরিষদ, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নিরাপদ সড়ক চাই, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, সড়ক বিভাগ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ অজ¯্র সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপদেষ্টা ও নেতারা যা বলেন ॥ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জাতীয় স্বার্থে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ঐকমত্য পোষণ করব। কিন্তু একেকজন মানুষের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। সেসব দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। একটা সরকারের জন্য গতানুগতিক কিছু চ্যালেঞ্জ তো থাকেই।

তবে এখন একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিভিন্ন সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ার। সেটা অবশ্যই একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এটাকে চ্যালেঞ্জ বলেন আর না বলেন, একটা প্রক্রিয়া তো বটেই। আমাদের জন্য ওটাতে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াকে একটা বড় বিষয় বলে আমি মনে করি। আরেকটা হচ্ছে- নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করে দেওয়া, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।  
এ সময় স্বাধীন ভূখণ্ডে এ দেশের মানুষ আর পরাধীন বোধ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৭১-এ দেশকে জন্ম দিয়েছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে স্বাধীনতার যে কনসেপ্ট সেটাকে নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

আমরা মনে করি, দেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যতক্ষণ না মনে করবে সে স্বাধীন, তার বাক-স্বাধীনতা আছে, তার ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বাক-স্বাধীনতা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভূখণ্ড স্বাধীন হয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মনে করি, ২৪ সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। এই স্বাধীনতা সামনের দিনগুলোতেও থাকবে। আর কখনোই একটি স্বাধীন ভূখণ্ডে এ দেশের মানুষ আর পরাধীনতা বোধ করবে না।
সকাল আটটার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই’ মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, যারা আজকের স্বাধীনতা দিবসকে খাটো করতে চান, একাত্তরের স্বাধীনতায় তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সুতরাং এই দিনটাকে তারা খাটো করতে চান।

আমি বলব, তারা যেন এখানেই বিরত থাকেন। এই স্বাধীনতা দিবসকে যেন সম্মান জানান এবং সম্মান করেন। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে স্বাধীনতার নতুন স্বাদ পেয়েছি। অনেকে বলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আসলে আজকের স্বাধীনতা দিবস প্রমাণ করে, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) নেতারা। এ সময় এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন দিলে মেনে নেওয়া হবে না মন্তব্য করে এসসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টির যে দাবি বিচার ও সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচন। আমরা মনে করি সেই পথে গেলেই জাতির একটি উত্তরণ ঘটবে গণতন্ত্রের পথে। সংস্কার এবং বিচারবিহীন যদি নির্বাচন দেওয়া হয় এবং কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্যই নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হয় সংস্কার ছাড়া তাহলে তা অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে না। 
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা মনে করি, ৭১ এবং ২৪ আলাদা কিছু নয়, বরং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই ৭১-এর যে স্পিরিট সেটা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সেটা ৫৪ বছরে অর্জিত হতে পারেনি বিধায় একটা ফ্যাসিজম ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে চেপে বসেছিল। ফলে ৭১-এ যে সাম্যের কথা বলা হয়েছিল ২৪-এ কিন্তু আমরা সেই বৈষম্যহীন সমাজের কথাই বলছি। ফলে যারা এটাকে পরস্পরবিরোধী বা মুখোমুখি করে দাঁড় করাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ এবং আমরা মনে করি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে, ছাত্র-জনতার বিজয়কে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। 
রাজারবাগ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ॥ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ স্মৃতিসৌধে প্রথমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
পরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মতিউর রহমান শেখ-এর নেতৃত্বে অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) নেতৃবৃন্দ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

×