ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৫ চৈত্র ১৪৩১

পরিকল্পিতভাবে নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শকে ভারতের ডিক্টেশনে সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ২৬ মার্চ ২০২৫; আপডেট: ২২:৫৮, ২৬ মার্চ ২০২৫

পরিকল্পিতভাবে নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শকে ভারতের ডিক্টেশনে সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, ইসলাম বিরোধী এসব চিন্তা চেতনা মতবাদকে যে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো কেন? পরিকল্পিতভাবে এই নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শকে ভারতের ডিক্টেশনে বাংলাদেশের সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে।”

বুধবার (২৬ মার্চ) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত ‘মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, “সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, ইসলাম বিরোধী এসব চিন্তা চেতনা মতবাদকে যে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো কেন? এটা তো মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘোষণায়, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র প্রক্লেমেশনে ছিল না। ৬৬ র ছয় দফায় যে আন্দোলন করেছিল, ৬৯ এর ১১ দফায় ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছিল, এর কোন দফার মধ্যে কিন্তু সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। পরিকল্পিতভাবে এই নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শকে ভারতের ডিক্টেশনে বাংলাদেশের সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান রচনা হয়েছে কখন? ১৯৭২ সালের নভেম্বরে। চতুর্থ নভেম্বর ১৯৭২ সালের চতুর্থ নভেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান হয়েছিল। ডক্টর কামালকে বলা হয় বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম। তার আগে কি হয়েছিল, দেখুন! তার আগে ভারতে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শেখ মুজিব যখন গেলেন এবং সেই সফরের পরে তিনি কলকাতায় একটি বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন, আমি সে বক্তব্যটা হুবহু কোট করছি। নিউইয়র্ক টাইমসের ১২ই জানুয়ারি তারিখের ১০ই জানুয়ারি নয়াদিল্লি জনসভায় শেখ মুজিব বক্তব্য রেখেছিলেন।”

তিনি জানান, “নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, তার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে ভারতের নীতিমালার ভিত্তিতেই, ইন্ডিয়ার নীতিমালার প্রিন্সিপালের ভিত্তিতেই শেখ মুজিবের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তারপর বলছেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডস ফর সেকুলারিজম, সোশালিজম এন্ড ডেমোক্রেসি। সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র। এটি হবে বাংলাদেশের নীতি। এটা বক্তব্য দিয়েছেন ১০ই জানুয়ারি ৭২ নয়া দিল্লিতে এক জনসভায় এবং এটি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৭ই মার্চ ৭২ তে ইন্দিরা গান্ধী ঢাকায় আসলেন এবং এক সমাবেশে ভারত বাংলাদেশ একই সাংবিধানিক মূলনীতিতে চলার কথা তিনি ঘোষণা করে গেলেন। উনি ক্যালকাটায় গিয়ে বললেন, ইন্দিরা গান্ধী ঢাকায় এসে বললেন, বাংলাদেশ আর ভারত সংবিধানের একই নীতিতে চলবে। সংবিধান রচনা হলো নভেম্বরে। আর আপনি মার্চ মাসে, এপ্রিল মাসগুলোতে সংবিধান একই নীতিতে প্রণয়ন করার গ্রাউন্ডওয়ার্কটা কিন্তু শেখ মুজিব ইন্দিরা গান্ধী করছিলেন। এখানে সোশালিজম, ঢুকবে এখানে সেকুলারিজম।”

তিনি যোগ করেন, “সহ্য হয় না বলে এখন তারা অভ্যন্তরীণের মধ্যে খোঁচা দিয়ে আমাদের মধ্যে একটা বিভেদ তৈরি করতে চায়। আর দুঃখজনক যে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা সেই গানের সাথে তাল দেয়। ওই গ্রামে কথা আছে না যে, ‘এমনিতো নাচুনি বুড়ি, তারপর আবার ঢোলের বাড়ি’। তো দিল্লি একটা ঢোলের বাড়ি দেয় আর এদেশের নাচুনি বুড়িরা নাচে। নেচে তখন ওইসব পুরনো কাসুন্দি টানে। এটা স্বাধীনতার চেতনা না।”

আফরোজা

×