ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৪ চৈত্র ১৪৩১

সাটুরিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা 

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ২৫ মার্চ ২০২৫

সাটুরিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা 

ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। ঈদের বাকি আছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিপণিবিতান, শপিং মল ও ফুটপাতের দোকানগুলো।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরের দিকে সাটুরিয়া উপজেলা সদর বাজারের বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সকল শ্রেণির মানুষ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে কাপড়ের দোকানে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাহারি ডিজাইনের পোশাক, যা স্থানীয় দোকানিরা বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সংগ্রহ করেছেন।

ঈদের বাজারে বিক্রেতাদেরও যেন দম ফেলার সময় নেই। তারা ক্রেতাদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোকানিরা জানান, এ বছর বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে থ্রি-পিস, নায়রা, অরগাঞ্জা, লেহেঙ্গা, স্কাট ও ফ্লোর টাচ ড্রেস রয়েছে। ছেলেদের পোশাকের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া ও সুতি পাঞ্জাবি। এছাড়া শাড়ির বাজারে রয়েছে কাতান, সিল্ক, তাঁত ও জামদানির সমাহার।

অন্যদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ভালো বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা। যাদের বাজেট কম, তারা ফুটপাতের দোকান থেকে পোশাক কিনতে ভিড় করছেন। এসব দোকানে তুলনামূলকভাবে দাম কম থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ সেখানে বেশি ভিড় করছেন।এবারে ঈদ বাজারে পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। 

সাটুরিয়া সদর বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, "এ বছর পোশাকের ডিজাইনের ভিন্নতা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দাম কিছুটা বেশি। তবে আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে।"

পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে শারমিন আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, "১০ ‌হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম শপিং করতে। স্বামী, মেয়ে আর নিজের জন্য জামা কিনতেই সব টাকা শেষ। অন্যান্য জিনিসপত্র পরে কিনতে হবে।" একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ক্রেতা রফিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, 'এ বছর সব জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি, পোশাকের বাজারেও আগুন। তাই তেমন কিছু কিনতে পারিনি। শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্য জামা-কাপড় কিনেছি, নিজের ও স্ত্রীর জন্য পরে কিনবো।"

ঈদ বাজারে পোশাকের পাশাপাশি জুতা, গহনা ও প্রসাধনীর দোকানেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মেয়েরা তাদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, কসমেটিকস ও গহনা কিনছেন। বাজারের একাধিক বিক্রেতা জানান , ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রিও বেড়েছে।

ঈদ বাজার নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাজার ও শপিংমলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের টহল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

আবীর

×