ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০১ মার্চ ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

হেফাজতের হত্যাকাণ্ডের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন প্রেস সচিব

প্রকাশিত: ২০:১৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

হেফাজতের হত্যাকাণ্ডের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন প্রেস সচিব

ছবি: সংগৃহীত।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড বিষয়ক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুল আলম বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিতে কর্মরত ছিলেন এবং তার ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে ওই দিন ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

তিনি আরও বলেন, "আমার অফিস তখন মতিঝিলে ছিল। সেদিন আমরা সারারাত জেগে রিপোর্ট করেছি। সরকার প্রথমে সাতজন নিহত হওয়ার কথা জানায়, পরে সেই সংখ্যা ১৩, তারপর ২৩ জন বলে দাবি করা হয়। তবে প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। আমরা যে সংখ্যা প্রকাশ করেছিলাম, তা ছিল অনেক বেশি।"

তিনি জানান, বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি মরদেহ পাওয়া যায়, যেগুলোর প্রত্যেকটিই মাথায় গুলিবিদ্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও মরদেহের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছিল না।

শফিকুল আলম আরও বলেন, "আমরা গোপনে ৩/৪ জনের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম, তবে অনেকেই নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। হাসপাতালগুলোও তখন চাপে ছিল, তাই কোনো তথ্য প্রকাশ করছিল না।"

তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের শাহজাহানপুর ও কাকরাইল শাখায় বিপুলসংখ্যক মরদেহ আনা হয়েছিল। এছাড়া, শাপলা চত্বর থেকে হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জেও বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি মনে করেন, হেফাজতে ইসলামের ও উচিত নিজেদেরই একটা অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা।

সায়মা ইসলাম

×