
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-জেএনসির অনুষ্ঠানে আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, "প্রিয় দেশবাসী, সবাই কেমন আছেন? আজকে কেমন উপভোগ করছেন? আমার সামনে দাঁড়ানো এই লক্ষ লক্ষ ছাত্র জনতা প্রত্যেকেই আজ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি ইতিহাসের সাক্ষী। এই ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে এই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সামনে উপস্থিত আছে আমাদের ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কেরা, যারা জীবন বাজী রেখে লড়াই করেছে, যারা বারবার গুমের শিকার হয়েছে, কিন্তু শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রশ্নে আপোষ করে নাই।"
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের পর থেকে ঐতিহাসিকভাবে আমরা বারবার প্রতারিত হয়েছি। আমরা ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি লাভের পরও ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৪টি বছর পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের শহীদেরা, আমাদের ৭১ এর বীর সেনারা জীবন দিয়ে লড়াই করেছিল। ৩০ লক্ষ মা-বোন জীবন দিয়েছিল, শুধুমাত্র একটি স্বপ্ন নিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা জীবন দিয়েছিল, কিন্তু কি দেখা গিয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল, কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? সেই দাম্ভিক শেখ মুজিবের পরিণতি আমরা দেখেছি। আমরা তার পরবর্তী সময়ে ছয়টি বছর মেজর জিয়ার শাসনামল দেখেছি, যেটা বাংলাদেশের মানুষকে একটি পথের দিশা দিয়েছিল। কিন্তু তার পরবর্তী থেকে আবারো বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে। স্বৈরশাসন, একদলীয় শাসন এবং প্রতিটি ইলেকশনের আগেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এদেশের মানুষকে আবার জিম্মি করে তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এদেশের মানুষ একদল আরেক দলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সংঘাতে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছিল। ২০০৭-২০০৮ সালের সেনা শাসনের পরে শেখ হাসিনা ভারতের সাথে এবং তৎকালীন একটি পাতানো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি প্রস্তর নির্মাণ করে। তারপর থেকে ১৬টি বছর এই দেশের তরুণরা, এই দেশের বৃদ্ধরা, এদেশের যুবকরা, শেখ হাসিনার নির্যাতনের কষাঘাতে নির্যাতিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, শেখ হাসিনার হিংসাত্মক মনোভাবের কারণে বেগম জিয়াকে কিভাবে দিনের পর দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।
তিনি আবার বলেন, আমরা দেখেছি, কিভাবে এদেশের বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদেরকে গুম,খুন করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, শুধুমাত্র বিরোধী মত পোষণের কারণে এদেশের মানুষের উপর কি পরিমান নির্যাতন করা হয়েছে। তার পরবর্তীতে, তার এই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশের মানুষ, এই মঞ্চে উপবিষ্ট তরুণদের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নেমে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান পরিচালনা করে। তার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সহ তার দুঃশাসনের সঙ্গীরা এদেশ থেকে পালিয়ে তাদের দাদাবাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা নতুন দলের পক্ষ থেকে কথা দিচ্ছি, আগামীর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, আগামীর বাংলাদেশ চাটুকার মুক্ত বাংলাদেশ কায়েম করবো। আগামীর বাংলাদেশে আর কোন নির্বাচনের আগে দলে দলে সংঘাত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা তরুণরা ঘটতে দিবে না । আগামীর বাংলাদেশে সকল দলমত নির্বিশেষে একসাথে বসবাস করবে। আজকে যেমন আমাদের এখানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল উপস্থিত হয়েছে, আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে, আমাদের এই তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সকল রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠন করা হবে। এটা এই দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।
ইমরান