ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

অস্বস্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

অশান্ত ভার্সিটি ক্যাম্পাস

আসিফ হাসান কাজল

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অশান্ত ভার্সিটি ক্যাম্পাস

ঢেলে সাজিয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢেলে সাজিয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অক্সফোর্ড-হার্ভার্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপককে দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বসানো হয়েছে। ক্যাম্পাস ও উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে নানা উদ্যোগের কথাও শোনা গেছে। কিন্তু এর পরও দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো শান্ত হচ্ছে না।

প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে। ছোট ঘটনা সেভাবে সামনে না এলেও বড় ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে অভিভাকরা যেমন সন্তানের শিক্ষাজীবন নিয়ে দুচিন্তায় আছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আছেন অস্বস্তিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব শীঘ্রই অশান্ত ক্যাম্পাসগুলো যেকোনো মূল্যে শান্ত করতে হবে। এ বিষয়ে  সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত বলেও মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ মনে করেন, আগের প্রক্রিয়ায় যেভাবে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হতো। সেই প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। যারা নিয়োগ দেন তাদের পরিচিত হলেই ভিসি নিয়োগ হয়ে গেছে। এর ফলেই উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই ধুঁকছে। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী সরকারকে বসিয়েছে এখন তারাই নিরাপত্তাহীনতা, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেটি খুবই বেমানান। সরকারের উচিত উচ্চ পর্যায় থেকে গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
সমস্যা সমাধানে তিনি কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। ড. মনজুর বলেন, ভিসি নিয়োগ পাওয়ার পরই শিক্ষার্থী ও অফিস স্টাফদের সংলাপের আয়োজন করা উচিত ছিল। যেসব বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে। যার সুযোগ এখনো রয়েছে। শিক্ষা নিয়ে কোনো সংস্কার কমিশনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্তত একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

কারণ কোন দাবি বাস্তবায়নে আমরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বসে পড়তে দেখছি। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু অস্থায়ী সমাধানও করা হচ্ছে। কিন্তু সবক্ষেত্রেই আমলা নির্ভরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে কোনো কিছুই সময় মত কাজে আসছে না। ক্যাম্পাসকে শান্ত করতে দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
কুয়েট ॥ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সব শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিলেও ক্যাম্পাসে তারা অবস্থান করেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা- বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংঘর্ষের ওই ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংঘর্ষের দিন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতি হচ্ছে সিন্ডিকেট সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার ভোর থেকেই কুয়েটের দশটি হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন। তাদের বেশিরভাগই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

যারা ক্যাম্পাস ছাড়ছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশের পর তারা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। তবে তাদের আশা, কুয়েটে যে সংকট চলছে অচিরেই তা কেটে গিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অপর এক সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। 
বুয়েট ॥ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালানোর খবরে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাস। জেমির গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সোমবার রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বুয়েটের শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি পলাশী মোড় ও ভিসি চত্বর হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। 
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এই দৃষ্টান্ত আবরার ফাহাদের সঙ্গে প্রতারণা ও বেঈমানি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অতি দ্রুত খুনি মুনতাসির আল জেমিকে খুঁজে বের করে আটক করতে হবে। পাশাপাশি তার পলায়নে সহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও অংশ নেন বিক্ষোভ মিছিলে। এ ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবরার ফাইয়াজ বলেন, ৬ মাস পরে যে আমরা জানতে পারছি, এটা তো রাষ্ট্রের দায়। এই মুহূর্তে একজন পালিয়ে গেছে, এটা তো আসলে লজ্জাজনক। এটা রাষ্ট্রের জন্যই লজ্জাজনক।
এ বিষয়ে বুয়েট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল সেটি এখন বন্ধ আছে। কোনো পরীক্ষা ক্লাস হচ্ছে কী না এমন প্রশ্নে তারা জানান, পরীক্ষা দুই দিন আগে শেষ হয়েছে। এখন কোনো শিক্ষার্থীদের তেমন তৎপরতা দেখতে পারছি না।
বেগম রোকেয় বিশ^বিদ্যালয় ॥ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনও করেছে শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ছিল ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ যা ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর নামকরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেনের নামটি ব্যবহার করে। যার কোনো যৌক্তিকতা সেসময় ছিল না। বরং বেগম রোকেয়া নামে বিশেষায়িত একটি বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে স্থাপন করা যেত।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন, পরিবহন সংকট তীব্র রয়েছে। যে সরকারের নির্দেশে আবু সাঈদের তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই সরকারের কোনো চিহ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। নাম পুনর্বহালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর, ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এসব দাবির স্বপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। তাই আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম পুনর্বহাল করা না হলে শাটডাউন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়টির প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

জনকণ্ঠকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, বিশ^বিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে ক্লাস-পরীক্ষা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য ড. মো. শওকত আলীকে ফোন দেওয়া হলে তার পিএস ধরেন। কিন্তু তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যা বলছে ইউজিসি ॥ বিশ^বিদ্যালয়গুলোর তদারকি সংস্থার এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য (পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়) অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয়গুলোর বিষয় দেখার জন্য সিন্ডিকেট আছে। তাদের সুসংগঠিত কাঠামো আছে।

এ বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের বাইরে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেক্ষেত্রে কিছু করার আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। সামগ্রিক উচ্চ শিক্ষায় স্থিতিশীল রাখতে স্ব স্ব বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
সাত কলেজ নিয়ে হয়নি চূড়ান্ত সুরাহা ॥ সাত কলেজের ৫টি কলেজেই রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী। এই কলেজগুলোর ভূমিও কলেজের নামে। এর মধ্যে দুটি কলেজ রয়েছে ছাত্রীদের। এসব কলেজের অবস্থান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। এমন অন্তত এক ডজন সমস্যায় সাত কলেজের বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসন থেকে দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা হয়নি। অভিভাকশূন্য এসব কলেজের ছাতা হিসেবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থাকলেও পরে  সরে ঢাবি। এতে বেকায়দায় পড়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের ১৪০০ শিক্ষক ও ১ লাখ ৬৩ হাজার শিক্ষার্থী। 
২০০৭ সালে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে অধিভুক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিকল্পনাহীন, অপরিপক্ব এই সিদ্ধান্তের বলি হন লাখো শিক্ষার্থী। নিয়মিত আন্দোলন, সেশনজট, প্রশাসনিক কাজে হীন আচরণের শিকার ছিল নিয়মিত ঘটনা। আন্দোলনের তোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয় কলেজগুলো।

এখন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কাজ। তবে সেটি বাস্তবায়নেও ব্যপক চ্যালেঞ্জে পড়েছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অনেকগুলো এসেছে এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’ ও ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় নানা বিষয় উঠে আসে।  
বিশেষজ্ঞ কমিটির এক সদস্য বলেন, সাতটি কলেজের ঐতিহ্য সংরক্ষণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এটা আমরা ধরে রাখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা সন্তোষজনক একটি সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশে এরকম কোনো মডেল নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুনাম ধরে রেখে একটি টেকসই মডেল প্রয়োজন। এটি করতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফয়েজ বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত, ইউজিসি জড়িত থাকবে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি অত্যন্ত যত্মশীল এবং বিবেচনার সঙ্গে কাজ করছি। আমরা একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানোর আশা করি। 
অভিভাকরা হতাশ ॥ বিশ^বিদ্যালয়ের অস্থিরতা নিয়ে  অভিভাবকরাও হতাশা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, সম্প্রতি বেশ কিছু বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন সন্তানকে ভর্তি করার সময়। এর মধ্যে ক্যাম্পাসগুলোর অস্থিরতা তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
রেবেকা পারভীন নামে এক অভিভাবক জানান, সম্প্রতি তার মেয়ে কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ ভর্তি হওয়ার তারিখ দেওয়া হয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। এর মধ্যেই কুয়েট অচল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি তার মেয়েকে কুয়েটে না অন্য কোথাও ভর্তি করাবেন তা নিয়ে সন্দিহান। ক্যাম্পাসের নেতিবাচক পরিস্থিতি সরকারকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করার অনুরোধ জানান তিনি। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ॥ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ^বিদ্যালয়) নুরুন আখতার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা কিন্তু বসে নেই। যেখানেই সমস্যা হচ্ছে আমরা চলে যাচ্ছি। দফায় দফায় বৈঠক করছি। এসব বিষয়ে একাধিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে ইউজিসি যে একেবারেই কিছু করতে পারবে না এটি মানতে তিনি নারাজ। যদিও নতুন কোনো উদ্যোগের বিষয়ে তিনি খোলাসা করেননি। অতিরিক্ত সচিব বলেন, ইউজিসি যদি কিছু করতেই না পারে তবে এই সংস্থাটি হলো কিভাবে। এ বিষয়ে যিনি বক্তব্য দিয়েছেন তাকে ভালো করে আইন পড়তে হবে।

×