ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেন নাই, তিনি একটি বাহিনী চালাচ্ছেন

প্রকাশিত: ২২:৪২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেন নাই, তিনি একটি বাহিনী চালাচ্ছেন

ছবি : সংগৃহীত

নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বুঝে-শুনেই বক্তব্য দিয়েছেন। দেশ ও জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে  সেনাপ্রধানের দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সচিবালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বেক্সিমকো লিমিটেডের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নিজেরা কাদা-ছোড়াছুড়ি, মারামারি ও কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে সতর্ক করেন সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এই দেশ আমাদের সবার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।’

সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সেনাপ্রধান আমার জন্য অনেক উঁচু স্তরের লোক, তিনি একটি বাহিনী চালাচ্ছেন এবং তিনি কোন কথা না বুঝে বলেন নাই, বাকিটা ইন্টারপ্রেটেশন (ব্যাখ্যা) কি- এটা আপনারা জানেন।

আমি যতটুকু উনাকে চিনি, উনি ভেরি স্ট্রেট ফরওয়ার্ড ম্যান, ভেরি ভেরি স্ট্রেট ফরওয়ার্ড ম্যান। যা বলার মানুষের মুখের উপরে বলার মত লোক। সো আই হ্যাভ লট অফ রেস্পেক্ট ফর হিম। উনি কি বলেছেন, না বলেছেন, সেটার ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না।” 

তিনি আরো বলেন, “লুটপাটের টাকা কোথায় গেছে, তাও আমরা জানিনা। ৪০০০০ কোটি টাকা যদি বলা থাকে, আগেও বলেছে যে, একটা ব্যাংক থেকেই ২৩০০০ প্লাস ক্রোর, সে টাকাটা কোথায় গেছে আমরা বলতে পারবো না, কালকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অত্যন্ত কঠিন ভাবে বলা হয়েছে যে, এই ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংক শুধু একটা ব্যাংক না, ১৩ টা ব্যাংক ইনভল্ভ। কম, বেশি, সবচাইতে বেশি জনতা ব্যাংক।

এখানে গতকালকে মাননীয় গভর্নর সাহেব ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের, উনার কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, উনি এসেছেন। উনি এসে আমাদেরকে অনেকগুলো সলিউশন দিয়ে গেলেন উনার তরফ থেকে। ওখানে বলা হলো যে, প্রত্যেকটি ব্যাংক, ইনক্লুডিং বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, যারা যারা ইনভল্ভ এই টাকা দেওয়ার পিছনে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।”

উপদেষ্টা বলেন, “এটা কিন্তু দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা কালকে আমার তরফ থেকে গিয়েছে এবং এটা আমাদের মিনিট’স এর মধ্যে লেখা আছে। আমি আইন অতখানি ক্লিয়ারলি বলতে পারবো না।

বিদেশে যারা গেছে, তারা হয় তারা আসবে, ফেস করবে, অথবা ওইখানে থাকবে এবং নন গ্রাটা হয়ে লোকজন আটকা পড়বে। আমি জানিনা কি হবে।

আমি অলরেডি জিজ্ঞাসা করেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে, যে দরকার হলে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করবেন তদন্তের পরে। কারণ আমরা এভাবে লোকজনকে ছেড়ে দিতে পারি না। যারা এতগুলো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনে খেলেছে, তারা তো আরামে এখানেও আছে, বিদেশেও আছে। সবাই সব জায়গায় আছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, আমরা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউই কিন্তু শ্রমিকের বিরুদ্ধে না। ঘটনা এরকম ঘটেছে, দেশের অবস্থা এরকম, যে আপনাদের সামনেই এটা। একই সাথে একটু আশার কথাও বলি, এখন আপনারা জানেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা ঝামেলা চলছে, দুই পরাশক্তির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।

এই হিসাবে আমরা আশা করি, অতি দ্রুত আমরা বাইরের লোক পাবো, যারা ইনভেস্ট করবে এখানে। কাজেই আপনারা হতাশ হওয়ার কথা, হতাশ হবেন না। যারা যারা থেকে যাবেন, তারা কিছু না কিছু একটা গতি হবে, ইনশাআল্লাহ আশা করি।”

মো. মহিউদ্দিন

×