
ছবি: সংগৃহীত
তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে তিনি সংশোধিত নীতিমালায় স্বাক্ষর করেছেন এবং এটি ছিল উনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কাজ।
সাংবাদিকরা কাজ করতে গিয়ে অনেক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। সবার অভিমত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, পরবর্তী সময়ে এটি মিডিয়া সংস্কার কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। মিডিয়া সংস্কার কমিশনও এই সুপারিশের উপর মতামত দিয়েছে।
কমিটির সুপারিশ এবং মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশকে সমন্বিত করে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হয়। এরপর, তাদের মতামতের ভিত্তিতে, এটি গতকাল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
আগের নীতিমালার প্রথম শর্ত ছিল সাংবাদিকদের সরকারের উন্নয়ন প্রচারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সাংবাদিকদের জন্য সরকারের উন্নয়ন প্রচার করার কোনো বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী এবং অস্থায়ী—দুই ধরনের এক রেশন কার্ড দেওয়া হতো। এর ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হতো। কেউ স্থায়ী কার্ড পেতেন, কেউ পেতেন এক বছরের জন্য অস্থায়ী কার্ড, যা নবায়নের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি করত।
এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এখন থেকে একটি রেশন কার্ড থাকবে এবং সেটির মেয়াদ হবে তিন বছর।
আগের নীতিমালায় সাংবাদিকদের জন্য খুবই অবমাননাকর একটি ধারা ছিল। সেটি হলো—যদি কোনো সাংবাদিক বিদেশ যেতে চান, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ অথবা প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। যদিও এটি বাস্তবে খুব একটা প্রয়োগ করা হতো না, তবে সরকার চাইলে এই ধারা প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের বিদেশ যাত্রার আবেদন বাতিলসহ নানা ব্যবস্থা নিতে পারত। নীতিমালা থেকে এই ধারাটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পূর্বে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। এখন, নতুন নীতিমালায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে—যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়, তবে তার এক রেশন কার্ড স্থগিত হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার এক রেশন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে।
যদি কোনো গণমাধ্যম সাংবাদিকদের প্রকৃত সংখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপন করে, তাহলে কমিটি প্রয়োজনে সেই গণমাধ্যমের কাছে সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র এবং বেতন সংক্রান্ত তথ্য চাইতে পারবে। এটি একটি সাংবাদিক-বান্ধব সিদ্ধান্ত, কারণ এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।
শিলা ইসলাম