
ছবি: সংগৃহীত।
আবরার ফাহাদ হত্যায় আসামিপক্ষের আইনজীবীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আমেরিকার হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্যা গালিব।
আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এ স্ট্যাটাস।
মির্যা গালিব লেখেন, আবরার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামি শিশির ভাইয়ের চেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট আর পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ (circumstantial evidence) দেখে উনার চেম্বার ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের মামলা গ্রহণ করে নাই। এই পাঁচজনকে নিরাপরাধ বলে মনে হয় নাই উনাদের কাছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে দুজনের ক্ষেত্রে আইনজীবী হিসেবে উনার সাবমিশন ছিল মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আদালত যেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। অর্থাৎ এই দুইজনকে উনি নির্দোষ বলে মনেও করেন নাই, আদালতে আইনজীবী হিসেবে তাদেরকে নির্দোষ বলে দাবিও করেন নাই। বরং উনি শুধু মনে করেছেন যে, অপরাধের সঙ্গে এই দুইজনের সংশ্লিষ্টতা মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার লেভেলের না। আরেকটু ছোট শাস্তি হওয়া উচিত। বাকি পাঁচ জনের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ (circumstantial evidence) এর ভিত্তিতে তার মনে হয়েছে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেন নাই।
তিনি লেখেন, আমি যেহেতু সাক্ষ্যপ্রমাণের ডিটেইলস ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করি নাই, শিশির ভাইয়ের জুডিশিয়াল মাইন্ডের জাজমেন্ট ঠিক আছে কি না, আমি তা বলতে পারব না। কিন্তু এইটুকু আমি দেখতে পাইতেছি যে, উনি যাদেরকে অপরাধী মনে করেছেন তাদের মামলা নেন নাই। দুইজনের ক্ষেত্রে তাদেরকে নিরাপরাধ হিসেবে আরগুমেন্টও করেন নাই। বরং তাদের সেন্টেন্সিং (শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ) এর ক্ষেত্রে আরগুমেন্ট করেছেন। এইটাকে জুডিশিয়াল নৈতিকতার বাইরে বলে মনে হচ্ছে না আমার কাছে।
অধ্যাপক ড. মির্যা গালিব লেখেন, আবরার আমাদের সময়ের হিরো। যারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমাদের সবার কাম্য। একজন আইনজীবী কাউকে অপরাধী হিসেবে বিশ্বাস করলে কোর্টে গিয়ে তাকে নিরাপরাধ হিসেবে আরগুমেন্ট করতে পারেন না। করলে সেইটা অনৈতিক হয়। কিন্তু একজন আইনজীবী যদি মনে করেন, অভিযুক্ত কেউ অপরাধের তুলনায় বেশি শাস্তি পেয়েছেন অথবা ভুলক্রমে অপরাধ না করে শাস্তি পেয়েছেন, তাহলে তার পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক অধিকার রাখেন। এই জায়গা থেকে আমি শিশির ভাইয়ের পজিশনকে সমালোচনা করব না। এই মামলা হয়তো উনি না নিলেই ভালো করতেন। কিন্তু উনি যদি সত্যিই কাউকে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিরাপরাধ মনে করেন, তাইলে উনার চিন্তা অনুযায়ী প্রফেশনাল আচরণ করাই উনার কর্তব্য।
তিনি আরও লেখেন, আমি যেহেতু সাক্ষ্যপ্রমাণের ডিটেইলস ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করি নাই, আমার আস্থা আছে এমন একাধিক আইনজীবী যদি পর্যালোচনা করে শিশির ভাইয়ের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাইলে ‘শিশির ভাইয়ের জুডিশিয়াল মাইন্ডের জাজমেন্ট’র ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করব।
নুসরাত