ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

অন্তর্বর্তী সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে ধ্বসে যাওয়া অর্থনীতি

প্রকাশিত: ১১:১৮, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে ধ্বসে যাওয়া অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত।

ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বহুমুখী উদ্যোগে কিছু সুফল দেখা শুরু হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই সীমিত। বরং, বিপরীতে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, হুহু করে বাড়তি মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক থেকে আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়া, এসব বিষয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। আর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় উদ্বেগ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে আসন্ন রমজান মাসেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে, তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক হতে পারেনি। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, কাঙ্খিত উন্নয়ন না হলেও, অর্থনীতির আটটি সূচকে শোচনীয় অবস্থার পতন রোধ করা গেছে। তবুও, আগামী দিনগুলোতে উদ্বেগ বাড়বে, বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে উৎপাদিত পণ্যের যোগান কমে যাচ্ছে।

বলা হচ্ছে, শুল্ক ও কর কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে। বাজার নজরদারী বা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, ব্যাংকিং খাতে জ্বালানি খাতে রাজস্ব খাতে সরকারি ব্যয়ের খাতে আর বড় মোটা সমস্যা সামনে আসতে পারে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রয়াসটি কতটা টেকসই হবে, সরকার পরিবর্তনের পর কর্মসূচিগুলির ধারাবাহিকতা থাকবে কি না, বা আবার নতুন করে সবকিছু শুরু হবে—এই প্রশ্নগুলো রয়েছে।

নতুন নীতি প্রণয়ন করলে তার প্রভাব কি পড়বে, অন্য কোন নীতির সঙ্গে সেটা সাংঘর্ষিক হয়ে জনকল্যাণকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে কিনা—এটাও একটি বড় প্রশ্ন। অর্থমন্ত্রণালয়কে সুপারিশ দিয়ে প্রতিবেদন বলছে, রাজস্ব ঘাটতিতে ঋণের দায় মেটানো এবং প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়ার ফলে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা আসতে পারে।

বলা হচ্ছে, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঘাটতি বাড়বে, লেনদেনের ভারসাম্যে বৈদেশিক মুদ্রা কমছে, এবং বাইরে থেকে যে টাকা পাঠানো হয় তা কমতে পারে। এসবই সমস্যা হিসেবে উঠে আসছে। তবে আসল সমস্যা হচ্ছে সুশাসন এবং আমলাতন্ত্রের অঙ্গীকারের অভাব, সদিচ্ছার সমস্যা এবং দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা, দৃশ্যমানতার অভাব।

এখানে বড় বাধা হলো অনিশ্চয়তা। একদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই দুইটি পরিস্থিতি অর্থনীতি ও বাজারের জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ হতে পারে। প্রতিবেদনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=aoP_WdeZVnM&ab_channel=Channel24

নুসরাত

×