ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

বিদেশগামী চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে ফেসবুক চক্র!

প্রকাশিত: ১০:২১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ১০:২৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বিদেশগামী চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে ফেসবুক চক্র!

ফেসবুক ও ইউটিউবে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখাচ্ছে একাধিক প্রতারকচক্র। ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির নামে তারা নিরীহ চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আকর্ষণীয় বেতন, বিলাসবহুল জীবন ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাজারো মানুষকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা পড়ছেন ভয়াবহ বিপদে। প্রতারণার শিকার হয়ে কেউ শ্রমিক হিসেবে জিম্মি হচ্ছেন, কেউ পাচারের শিকার হচ্ছেন, আবার কেউ অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।


প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমান। এসব প্রতারকচক্র এখন পুরনো কৌশল বদলে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করছে।
 একসময় তারা গ্রামে ঘুরে ঘুরে লোক সংগ্রহ করত, এখন অনলাইনে 'বিশ্বস্ত' এজেন্সির পরিচয়ে লাইসেন্সবিহীন ভুয়া অফিস চালাচ্ছে। তারা ভিসা প্রসেসিং, মেডিকেল পরীক্ষা, ফ্লাইট টিকিটের অজুহাতে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, দেশ ছাড়ার পর এজেন্সির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকে না, ফোন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়।


যারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তারা বিদেশে পৌঁছে দেখছেন প্রতিশ্রুত চাকরি নেই, থাকার ব্যবস্থা নেই, এমনকি কাগজপত্র জাল থাকায় অনেককে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, কেউবা পালিয়ে বেঁচে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। দেশে ফিরে আসলেও তাদের আর্থিক অবস্থা ভয়াবহ রকমের খারাপ হয়ে যায়। নিঃস্ব অবস্থায় অনেকেই পরিবারসহ দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ছেন।


জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। কিন্তু এসব প্রতারণার কারণে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) জানিয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অভিযানে নামা হয়েছে। তবে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই চক্র থামানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে প্রতারণার হার কমে আসবে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিলে প্রতারকদের বিচারও সহজ হবে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা যাচাই করা উচিত। কোনো লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া থেকে বাঁচতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।


সূত্র:https://tinyurl.com/2k8eff7f

আফরোজা

×