ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

তিমির অসাধারণ যাত্রা

অনলাইন থেকে

প্রকাশিত: ২৩:২০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

তিমির অসাধারণ যাত্রা

তিমির

রূপকথায় আছে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে রাজকন্যাকে আনতে গিয়েছিলেন রাজকুমার। বাস্তবে সেই রাজকুমারের যেন সন্ধান পাওয়া গেল। সাত সমুদ্র না হলেও প্রেমিকার টানে ১৩ হাজার ৪৬ কিলোমিটার পারি দিয়েছে সেই রাজকুমার। বিস্ময়করই বটে। একটি হাম্পব্যাক তিমি মাছ।

নিজের প্রেমিকাকে খুঁজতে ৮ হাজার ১০৬ মাইল পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আফ্রিকায় পৌঁছেছে। যা দেখে গবেষকরা বলছেন, প্রেমের টানেই হয়ত রেকর্ড গড়ে ফেলেছে সেই তিমি। এ যাবৎকালে কোনো তিমি এত দীর্ঘপথ ভ্রমণ করেনি। 
রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সের প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ অসাধারণ যাত্রার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেই গবেষণার তথ্য অনুসারে, এই প্রথমবার একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হাম্পব্যাক তিমিকে প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে ভ্রমণ করতে দেখা গিয়েছে।
গবেষকরা তিমির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী টেড চিজম্যানের প্রতিষ্ঠিত হ্যাপি হোয়েল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।

২০১৩ সালে কলম্বিয়ার কাছে প্রথম দেখা যায় ওই তিমিকে। কয়েকবছর পরে একই অঞ্চলে আবার তিমিটি দেখা যায়। তবে, ২০২২ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে ওই তিমিকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে জাঞ্জিবারের কাছে ভারত মহাসাগরে দেখতে পাওয়া যায়।
সাধারণত একটি প্রাপ্ত বয়স্ক হাম্পব্যাক তিমি প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ মাইলের (৮ হাজার কিলোমিটার) মধ্যে ঘোরাফেরা করে। তবে এই তিমিটির বিশাল যাত্রাপথ তার দ্বিগুণ। হঠাৎ করে কেন এত দীর্ঘপথ যাত্রা করল ওই তিমি ? গবেষকদের মধ্যে অন্যতম চিজম্যানের ধারণা কলম্বিয়ায় নিজের সঙ্গীর জন্য ক্রমাগত প্রতিযোগিতা এবং খাবারের ঘাটতির কারণে তিমিটি আফ্রিকায় নিজের জন্য নতুন অঞ্চল খুঁজতে গিয়ে থাকতে পারে।

চিজম্যান বলেন, তিমিরা স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী, বিভিন্ন আশ্চর্যজনক কাজ করে। মহাসাগরগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। তিমিরা অনেক সময় নিজেদের সীমানা ছাড়িয়ে এগিয়ে যায়।’
সাধারণত প্রতিবছর একই প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে ফিরে আসে তিমিরা। কিন্তু এই তিমিকে বিভিন্ন মহাসাগরে দুটি পৃথক প্রজনন ক্ষেত্রের মধ্যে বিচরণ করতে দেখা গেছে। যা তিমির প্রজননের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা। -অনলাইন থেকে

×