
.
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আগামীতে একটি আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বের জাতীয় নির্বাচন চাই। নির্বাচনে যারা যত বেশি ভোট পাবে তাদের মধ্য থেকে ততসংখ্যক প্রতিনিধি সংসদে যাবে। কোনো দল যদি এক শতাংশ ভোট পায় তাদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কোনো এক দলের হাতে দেশ পরিচালিত হতে পারে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলায় দলের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা জনগণকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, তারা এই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। একইসঙ্গে তারা দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এ সময় দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা বর্তমান অন্তরর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দেব একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্য। এদিকে দীর্ঘদিন পর কর্মী সম্মেলন হওয়ায় উৎফুল্ল প্রকাশ করে দলের নেতাকর্মীরা। দলের পাইকগাছা থানা কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। খুলনার সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রা উপজেলায় এর আগে কবে নাগাদ এভাবে প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কর্মী সম্মেলন হয়েছিল তা স্মরণে নেই নেতা-কর্মীদের। তবে কেউ কেউ বলেছেন ১৭ বছরের মধ্যে হয়নি। সে কারণেই নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা অনেকটা বেশি। বেলা দুইটাই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই নেতাকর্মীদের আগমনে ভরে যায় কপোতাক্ষ কলেজ ময়দান। শুধু জনসভাস্থলই নয়, বাড়ির ছাদে, দূরে শত শত সমর্থক দলের আমিরের বক্তব্য শোনার জন্য হাজির হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলুমে জুলুমে বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল শেখ হাসিনা। তিনি অনেককে বলেছিলেন এ দেশ থেকে চলে যাও কিন্তু মানুষ পালায়নি। কারণ দেশের জনগণ হচ্ছে মালিক, তারা কখনো পালায় না, যারা পালিয়েছে তারা ভাড়াটিয়া ছিল। তাই তারা পালিয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে আমরা এমন নির্বাচন চাই, যেখানে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে। কারণ এই দেশকে কারও হাতে আর আমরা জিম্মি হতে দেব না। বক্তৃতায় ভারতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশীকে সম্মান করি তাই আপনারও প্রতিবেশীকে সম্মান করতে শিখুন। আমাদের দিকে আর চোখ তুলে তাকাবেন না, কেননা এদেশের মানুষ প্রতিবাদ করতে শিখেছে। জামায়াতের আমির আরও বলেন, গত তিনটা নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোট দিতে পারেনি ১৯১৪ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোর করে ভোট কেটে বিজয়ী হয়েছে। ১৮ সালে নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করেছে। এ ছাড়া সর্বশেষ ২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগের আমি ও ডামি প্রার্থী। অর্থাৎ নিজেদের মতো করেই প্রতিদ্বন্দ্বী দিয়ে তারা বিজয়ী হয়েছে যেখানে দেশের আপামর জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তাই এদেশের নতুন প্রজন্ম ভোট দেওয়ার জন্য প্রতীক্ষায় আছে তারা ভোট দিয়ে যোগ্য লোককে নির্বাচিত করতে চায়। এই দেশের মানুষ আর কখনো গুম খুনের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষমতায় আনবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে আমরা সময় দেব সংস্কার করে একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার জন্য। যেখানে মানুষ তাদের ভোটাধিকার স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োগ করতে পারবেন। আগামীতে এই দেশ হবে শান্তির দেশ দুর্নীতিমুক্ত দেশ এই দেশে আর কেউ গুম খুন নির্যাতন করতে পারবে না। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম মুকুল। উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন খুলনা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, খুলনা উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি বেলাল হোসাইন রিয়াদ ও সেক্রেটারি আবু ইউসুফ ফকির।
এর আগে পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সকাল ৮ টায় স্থানীয় গদাইপুর ফুটবল ময়দানে পথ সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষন দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ মো. রুহুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম মুকুল। উপজেলা আমির মাওলানা সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেনের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথি বক্তৃতা করেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দি, খুলনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, খুলনা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আবুজার আল গিফারী প্রমুখ।
এ সময় আগত নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৭ বছরে এভাবে প্রকাশ্যে কয়রাতে জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মী সম্মেলন হয়নি। যখনই আমরা সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেছি তখনই পতিত সরকার হামলা করেছে মামলা দিয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে করেছে ঘরছাড়া। কেউ কেউ বলেন আমরা আজকের সম্মেলনে এসেছি আমাদের আমিরের নির্দেশনা শোনার জন্য। যা থেকে আগামীতে আমরা দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করব।
এর আগে তিনি দলের ডুমুরিয়া শাখার আয়োজনে ১৮ মাইল এবং পাইকগাছা শাখার আয়োজনে গদাইপুর ফুটবল মাঠে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। সব জায়গায় তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।