
তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন করা হবে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদি সুফলের লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয়ের একটা কাঠামোগত সংস্কারের কথা ভাবছি। বিভিন্ন আইনের পরিবর্তন, সাংবাদিকদের বেতনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদি গণতন্ত্র চাই তাহলে গণমাধ্যমের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষ হতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার সচিবালয়ে প্রথম অফিসে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভেবেছি। এর রূপরেখা কি হবে সেটা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব। সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগগুলো নিতে চাচ্ছি। সেন্সর বোর্ডের কারণে যে ছবিগুলো আসেনি সেগুলো নিয়ে দ্রুতই বসবো। সেন্সর বোর্ডকে দ্রুততার সঙ্গে পুনর্গঠন করব। সেন্সর বোর্ড না থাকার যে দাবি, সেটিও আলোচনা করে যৌক্তিকতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।
অনেকে এখন ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এ বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন- জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তাদের যেন কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা রয়েছে। মামলাগুলো হলেও সেগুলো সুস্পষ্ট তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।
গণমাধ্যম কর্মী আইনটি দীর্ঘদিন ঝুলে আছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এটি আমি দেখব। সাগর-রুনি হত্যার বিচার সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে চাইছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা নিয়ে কোনো ধরনের প্রহসন, টালবাহানা চাচ্ছি না।
উপদেষ্টা বলেন, সব মন্ত্রণালয়ের একটা কাঠামোগত সংস্কারের কথা ভাবছি। যাতে দীর্ঘমেয়াদি এটার সুফলটা আসে।
বিভিন্ন আইনের পরিবর্তন, সাংবাদিকদের বেতনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। ডিএফপি এবং পিআইবিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা তো বলেছি যে, দুর্নীতি, কোনো স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান এখানে দেখতে চাই না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দাঁড় করাতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা হচ্ছে নিরপেক্ষতা। কিন্তু আমাদের দেশে গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে দেখি, আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো গণমাধ্যমেও দুইটা ভাগ থাকে। এই বিষয়গুলো সাংবাদিকরা বিবেচনা করবেন, যাতে এ ধরনের দলীয় কোনো ভাগ সাংবাদিকদের মধ্যে না দেখি। যাতে তারা একটি নিরপেক্ষ জায়গা থেকে জনগণের জন্য কথা বলতে পারেন।
আমাকে স্যার বলার দরকার নেই ॥ তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই। আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তত ভালো। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সরকার হিসেবে এখানে এসেছি। আমি জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি। জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে এসেছি। একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। এখন আমি আপনাদের কাছে সেই সহযোগিতাটা কামনা করছি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রহসন করা হয়েছে। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে। এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি ঠিক করা হবে।
তিনি বলেন, নিবর্তনমূলক আইন, যেগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অন্তরায়, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এ সময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি চাই না, মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা হোক। স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি ঠিক করা হবে।
আশি-নব্বই দশকের প্রজন্ম ছাড়া কেউ বিটিভি দেখে কি না জানি না ॥ তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আশি বা নব্বই দশকের প্রজন্ম ছাড়া কেউ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দেখে কি না জানা নেই। তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে গতিশীল ও আধুনিক করা দরকার। সেগুলো খুবই স্থবির অবস্থায় আছে। বিটিভিকে দেখলে মনে হয় এটা আশি বা নব্বই দশকের বিটিভি। ওই জেনারেশনই বিটিভি দেখে, আর কেউ বিটিভি দেখে কি না জানি না।
উপদেষ্টা বলেন, এর একটা দিক হলো এর দলীয়করণ, রাজনীতিকীকরণ আছে, আরেকটা হচ্ছে, কনটেন্টগুলো মনে হচ্ছে এই প্রজন্মের জন্য নয়। সেই জায়গা থেকে মনে করি, সব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ করা উচিত। সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান, সেখানে কিছু সরকারের অ্যাসাইন করা লোক বসবে, কিছু পদ দখল করে বসে থাকবে, এ রকমটা যাতে না হয়। সেন্সর বোর্ড, জুরি বোর্ডসহ এই ধরনের যে কমিটিগুলো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন করা উচিত।
চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের চলচ্চিত্র থেকে অনেক আকাক্সক্ষা। তরুণ প্রজন্মের সেই আকাক্সক্ষা পূরণ হচ্ছে না। সেই আকাক্সক্ষা অনুযায়ী আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করতে হবে। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, অনেকগুলো চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ড অবস্থায় আছে।
সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যদি নীতিমালা ভঙ্গ না হয়, সেই চলচ্চিত্রগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় যাতে বিবেচনায় না নেওয়া হয়। যদি গণতন্ত্র চাই তাহলে আমাদের গণমাধ্যমের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।