ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে বিভাগীয় সম্মেলন 

অনলাইন রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৩:২৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে বিভাগীয় সম্মেলন 

ছবি; সংগৃহীত

অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসা এবং গ্রামীণ জনগণের মাঝে বিচারিক সেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় প্রকল্প এলাকার ৮৮৬টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতগুলোকে আরো সক্রিয় করতে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয়নে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কে এম আলী আযমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রায় ৩৭০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।


সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালত বিচারিক সেবার একটি কার্যকর মাধ্যম। যা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 


গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উপ-আবাসিক প্রতিনিধি মিস সোনালি দায়ারাত্ন বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীরা স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।


স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এ. কে. এম. তারিকুল আলম বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বিশেষত: জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার ৮৯টি উপজেলায় প্রকল্পটির স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মাঝে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রকল্প এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের নেতৃত্ব ও ভূমিকা প্রশংসনীয়।


সম্মেলনে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাতেম আলী পিপিএম, মো. আব্দুর রহিম, বিভাষ চক্রবর্তী প্রমুখ।

এসময় বক্তারা প্রকল্প এলাকাসহ দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গ্রাম আদালতগুলোকে আরো সক্রিয় করতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিতকরণ ও এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তারা গ্রাম আদালতে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চেয়ারম্যানদের অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার উপরও জোর দেন। 


উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পটি চালু করে। স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের লক্ষ্যে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী  বিশেষত: নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য কাজ করছে এই প্রকল্প।

প্রকল্পটি বর্তমানে এর ৩য় পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬১ জেলার ৪৬৮ উপজেলার ৪ হাজার ৪৫৩ টি ইউনিয়নে গ্রামীণ জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করছে। এছাড়াও প্রকল্পটি এর ১ম ও ২য় পর্যায়ে দেশের ১ হাজার ৪১২টি ইউনিয়নের ২৫ লাখেরও বেশি স্থানীয় লোকজনকে বিচারিক সুবিধা পেতে সাহায্য করেছে।

শহীদ

×