
রূদ্র কমল আলমিরার পুরনো কাগজপত্র খুঁজছিল। তখনও কী সে জানত না তার জীবনে কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। বাল্বের আলো যখন আলমিরার ভেতরে পড়ছিল, তখন তার চোখে পড়লো লিটলম্যাগ-"স্বপ্নীল"। স্বপ্নীলের প্রথম পাতা খুলতেই রূদ্র কমলের মনে অদ্ভুত অনুভূতি জাগল। প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম বাক্য ছিল, "কেন কাঁদালে আমায়।" সেই শব্দগুলো যেন তার হৃদয়ের গভীরে প্রবাহিত।
বিন্দুর কথা মনে পড়ল। রূপক আর বিন্দু,একসঙ্গে তারা যেভাবে সময় কাটাত, সেভাবে রূদ্র কমল, রূপকের গল্পের মাঝে ডুবে গেল। বিন্দুর সাথে প্রথম দেখা, তাদের প্রথম কথা-সব কিছু যেন তার মনে পড়ে গেল। বিন্দু ছিল কবি মাহফুজ রিপনের কবিতার মতো, যার প্রতিটি শব্দ তার হৃদয় ছুঁয়ে যেত।
বইটি পড়া শেষ করার পর, রূদ্র কমল সিদ্ধান্ত নিল, সে রূপকের সম্পর্কে আরও জানবে। রূদ্র কমল দেখতে পেল, রূপকের প্রেম কাহিনী একটি অসাধারণ বেদনাদায়ক গল্প। সে প্রতিটি শব্দে যেন বিন্দুর নাম খুঁজে পাচ্ছিল, রূপকের প্রেমের গল্প যেন তাদের সম্পর্কের রূপকথার মতো।
রূদ্র কমল একটি পুরনো চিঠি পেল। চিঠিতে লেখা ছিল,
বিন্দু,
তুমি আমার কৈশোরিক অনুভূতি ফিরিয়ে দিয়েছো! কতদিন এমন তীব্র অভিমান বোধ করিনি কারো জন্যে আমি! কতকাল ধরে কারো সামান্য উপেক্ষাও আমার বুকের ভেতর এমন সুখের কষ্ট তৈরী করেনি! কতদিন! অথচ আমিতো অপেক্ষা করেছি কৈশোরিক অভিমানের জন্যে! সামান্য উপেক্ষায় বুক বিদীর্ণ হয়ে যাবার মতো কষ্টের জন্যে! আর তুমি সেই সকল কিছু ফিরিয়ে এনেছো। কী যে এক ঘোর, এক মোহ এখন আমার মধ্যে তা কাউকে বোঝানো যাবে না। সারাবেলা অক্টোপাসের মতো সুখের কষ্ট আমাকে ঘিরে। একটু যদি উপেক্ষা টের পাই, তখন আমার ঠোঁট কিশোরের মতো কেঁপে ওঠে। বুকের মধ্যে এক অচেনা কষ্ট খুঁজে পাই।
ভালো থেকো। সব সময়।
-একজন শুভার্থী রূপক।
রূদ্র কমল তখন সিদ্ধান্ত নিল, সে বিন্দুর জন্য একটি ছবি প্রদর্শনী করবে। তার ছবি হবে বিন্দুর প্রেমের প্রতিচ্ছবি। ছবি প্রদর্শনিতে প্রতিদিন সে বিন্দুকে খুঁজে পেত। বিন্দুর হাসি, চোখের জল,সব কিছু যেন তার ছবিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। রূদ্র কমলের ছবিগুলোতে বিন্দুর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সব কিছু রং তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছিল।
এক সময়ে রূদ্র কমল তার ছবিগুলো "স্বপ্নীল" শিরোনামে প্রদর্শনীতে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে বিন্দুর স্মৃতি ও কবি মাহফুজ রিপনের কবিতার সমন্বয়ে একটি মোহময়ী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। দর্শকরা যখন ছবিগুলো দেখছিল, তারা যেন বিন্দুর হৃদয়ে প্রবাহিত প্রেমের অনুভূতি বুঝতে পারছিল। রূদ্র কমলের মনে হচ্ছিল, বিন্দু পাশে দাঁড়িয়ে বলছে, এটাই আমাদের প্রেম কাহিনী।
রূদ্র কমলকে, একজন দর্শক এসে বলল- ছবিগুলোর একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। আপনি বিন্দুকে জীবিত করে তুলেছেন। রূদ্র কমল বুঝতে পারল, এটি শুধু একজন লেখকের প্রেম কাহিনী নয়। প্রেমের অস্তিত্বের মধ্যে একটি অসাধারণ মুগ্ধতা আছে। সে বিন্দুর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে। প্রেম কখনো মরে না, সব সময় নতুন রূপে ফিরে আসে।
আফরোজা